kalerkantho


ফসলি জমি রক্ষায় আইন হচ্ছে : পূর্তমন্ত্রী

উত্তরা প্রকল্পের আইডি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফসলি জমি রক্ষার লক্ষ্যে আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আইন হলে ফসলি জমি নষ্ট করে বাড়ি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা যাবে না। পূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এখন থেকে উঁচু বিল্ডিং নির্মাণ করে সবার বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে। রাজউকের ঝিলমিল প্রকল্পে আরো ১৪ হাজার ৫০০ এবং পূর্বাচল প্রকল্পে ৭০ হাজার ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকের ফ্ল্যাট আইডি প্রদানসংক্রান্ত লটারি অনুষ্ঠানে গৃহায়ণমন্ত্রী এসব কথা জানান। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের দুই হাজার ৬২১ জন গ্রহীতাকে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাটের আইডি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. দবিরুল ইসলাম, এ কে এম ফজলুল হক এমপি, নূর-ই-হাসনা লিলি এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজউক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান।

রাজউক জানায়, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ১৮ নম্বর সেক্টরে এক হাজার ৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৩৬টি। ছয় হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাটের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬১৪টি। ফ্ল্যাট গ্রহীতা চার কিস্তি টাকা পরিশোধ করেছেন এক হাজার ৮৩২ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হস্তান্তর উপযোগী ৮৪০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে তিনটি ফ্ল্যাট আইডি এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী তিনজনকে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৮৩৭টি ফ্ল্যাটের আইডি গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর সব বস্তিতে উঁচু বিল্ডিং করে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ৫৫০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হলে সব বস্তিবাসীকে ভাড়াভিত্তিক উন্নত বসবাসের ব্যবস্থা করা যাবে।’

মন্ত্রী জানান, ‘ঝিলমিলে প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার ৫০০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্বাচলে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১০০টি ইকোনমিক জোনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বানাতে হবে। এ ছাড়া গ্রামে যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় তাহলে বর্তমান আবাসিক স্থলে উঁচু বিল্ডিং বানাতে হবে। আর ফসলি জমি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।

রাজউক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান বলেন, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্টের সব রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। শিগগিরই রাস্তা নির্মাণ হয়ে যাবে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের যোগাযোগ সহজ করার জন্য উত্তরা জসিমউদ্দীন সড়কের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মিরপুরের সঙ্গেও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হবে। পূর্বাচল প্রকল্পের ভেতরে মেট্রো রেলের কাজ চলছে, যা উত্তরা প্রকল্পের মধ্য দিয়ে যাবে। এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় আর কী দরকার এ বিষয়ে ফ্ল্যাটের মালিকদের জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান।

এক হাজার ৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের ২০১৩ সালে প্রথম পর্যায়ে যারা ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চার কিস্তি মূল্য পরিশোধ করেছেন তাঁদেরকে আইডি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ৯৬ একর জমিতে ৭৯টি ১৬ তলা ভবনে ছয় হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫ বছর মেয়াদি ৮.৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে তিনটি বেডরুম, একটি লিভিংরুম, একটি ডাইনিংরুম, একটি ফ্যামিলি লিভিং, চারটি বারান্দা, চারটি টয়লেট ও কিচেন রয়েছে। এ ছাড়া ২০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি উন্নতমানের লিফট রয়েছে। ভবনে একটি প্রধান সিঁড়ি ও দুটি অগ্নিনির্বাপক সিঁড়ি রয়েছে।

প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকের প্রতিটি ভবনে একটি বেসমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর ও ১৪টি ফ্লোর রয়েছে। ১৪টি ফ্লোরের প্রতিটিতে নেট এক হাজার ২৭৬ বর্গফুটের (গ্রস এক হাজার ৬৫৪ বর্গফুট) ছয়টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৮৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বর্তমানে স্বল্পসংখ্যক ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আবেদনের করা যাবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ধরা হয়েছে চার হাজার ৮০০ টাকা।


মন্তব্য