kalerkantho


ইবির চতুর্থ সমাবর্তন

অর্জিত জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ঘটাতে বললেন রাষ্ট্রপতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অর্জিত জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ঘটাতে বললেন রাষ্ট্রপতি

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গতকাল সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘রাজশাহী কারাগারে আমাকে রাখা হয়েছিল কনডেম সেলে। পাশেই ছিল ফাঁসির মঞ্চ। সেল থেকে তা দেখাও যেত। মনে মনে ভাবতাম, না জানি আবার ওখানে কোন সময় যাইতে হয়! পরে অনেক তদবির করে আমাকে ঢাকা জেলে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসে। এখানে আমার স্ত্রীর অবদান ছিল বেশি।’

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ গতকাল রবিবার কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীতে কারাবাসের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। কুষ্টিয়ার জেলজীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার কারাগারে থাকার সময় ১৯৭৬ সালের ১৩ জানুয়ারি আমার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এ সময় স্ত্রীর কাছ থেকে চিঠি আসে মেয়ের নাম রাখার বিষয়ে। ভেবে পাচ্ছিলাম না কী নাম রাখা যায়। যেহেতু ব্রিটিশ পিরিয়ডে কুষ্টিয়া ছিল নদীয়া জেলা, অবশেষে তাই জেলার নামে মেয়ের নাম রেখে দিলাম নদীয়া।’

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে আচার্য বলেন, দেশ-জাতির প্রতি তোমাদের রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তোমরা নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালনে উন্মুখ বলে আমি মনে করি। তোমরা অর্জিত জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ঘটাতে পারলে দেশ অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

রাষ্ট্রপতি এর আগে ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসহ মোট চারটি স্থাপনা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন করা চার স্থাপনার মধ্যে আরো রয়েছে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন, শেখ রাসেল হলের একটি ফেজ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের বর্ধিতাংশ।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বরেণ্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সমাবর্তন বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আজ মাদকাসক্তের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করে দেখেছেন, ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ কমে গেছে, মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা এবং বিশ্লেষণ করার প্রবণতা কমে গেছে। যার জন্য দায়ী ফেসবুক। তোমরা যদি এই বক্তব্যের একটি লাইনও মনে রাখতে চাও তাহলে এই লাইনটা মনে রেখ—তোমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার কর, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে।’

ফোকলোর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরোয়ার মোর্শেদ এবং আইন বিভাগের শিক্ষক আরমিন খাতুনের সঞ্চালনায় সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশেদা খানম ও মেয়ে স্বর্ণা হামিদও উপস্থিত ছিলেন।

চতুর্থ সমাবর্তনে ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের সনদ প্রদান করা হয়। সমাবর্তনে মোট ৯ হাজার ৩৭২ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ দেওয়া হয়।


মন্তব্য