kalerkantho


এবার শীতে কাবু রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কক্সবাজারের উখিয়াসহ অন্যান্য আশ্রয়শিবিরের ঝুপড়িতে শীতে কষ্ট পাচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। ঝুপড়িগুলোর পলিথিনের ছাউনির ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানির মতো করে কুয়াশা পড়ছে। পলিথিনের বেড়ার ছিদ্র দিয়ে ঢুকছে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। পাহাড়ি মাটিতে শুধু চাটাই বিছিয়ে ঘুমানো মানুষগুলো কম্বল ও কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ করতে পারছে না।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ই-২ ব্লকের মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) আবদুল হামিদ (৩০) বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে রয়েছি। এতকাল এখানে এ রকম শীত আর অনুভূত হয়নি। এই প্রথম এ রকম তীব্র শীত অনুভব করছি।’ তিনি বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) যেসব কম্বল দিয়েছে তার সবই নিম্নমানের এবং হালকা-পাতলা। তাই এসব কম্বলে শীত সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

বালুখালী আশ্রয়শিবিরের মাঝি লালু বলেন, ‘রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বস্তিগুলো করা হয়েছে তাত্ক্ষণিক সময়ের মধ্যে। একদম পাতলা পলিথিনের ছাউনি এবং বেড়া হিসেবেও এসব পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই কয় মাসে এসব পলিথিন ছিদ্র হয়ে গেছে। তাই রাতে ছাউনির ছিদ্র দিয়ে যেমন কুয়াশা পড়ছে তেমনি হিমশীতল বাতাসে ঢুকছে বেড়ার ছিদ্র দিয়ে। শীতে কাবু হয়ে গেছে রোহিঙ্গারা।’

কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ই-২ ব্লকের বাসিন্দা আবুল কালাম (৩৫) বলেন, ‘শীতে বড্ড কষ্টে আছি। স্ত্রী, ছয় ছেলে-মেয়েসহ আমরা পরিবারের আট সদস্যের জন্য কম্বল রয়েছে মাত্র দুটি। এমন শীতে এই দুটি কম্বলে কিভাবে রাত কাটাচ্ছি সেটা ওপরওয়ালা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শীত ছাড়াও খাবার নিয়ে আরো বেশি কষ্টে আছি। কেননা শিবিরটির এই ব্লকের ২৫টি পরিবারের মাঝে দুই মাস ধরে চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি প্রতি মাসে পরিবারপিছু ২৫ কেজি করে চাল সরবরাহ দিয়ে থাকে; কিন্তু কী কারণে এসব পরিবারকে দুই মাস ধরে চাল দেওয়া হচ্ছে না সেটা জানা যায়নি।’

কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ই-২ ব্লকের আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪৫) বলেন, তাঁর পরিবারের ১০ জন সদস্যের জন্য কম্বল রয়েছে ১০টি। এই ১০টি কম্বল নিয়ে তীব্র শীতের রাত কাটাতে কাহিল হয়ে পড়ছেন তাঁরা।

এদিকে তীব্র শীতের কারণে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নানা রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে কর্মরত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মিসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বাস্তবে কক্সবাজার এলাকার তাপমাত্রা সারা দেশের তুলনায় অনেক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তাই এখানকার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে শীত অনুভূত হলেও রোগ-ব্যাধি এখনো তেমন ব্যাপক হারে ছড়ায়নি।’ গত রাত ৮টায় কক্সবাজারের আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকায় সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ৫ এবং সর্বোচ্চ ছিল ২৪ দশমিক শূন্য ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হামলা, নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় সে দেশের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা। এরপর সীমান্ত পর হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে। এখন পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এর আগে ২০১২ এবং তারও আগে আসা আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে রয়েছে।


মন্তব্য