kalerkantho


বেসিক ব্যাংকের ভবন ক্রয়

মামলা হবে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে

আবুল কাশেম   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মামলা হবে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে

৮০ কোটি টাকায় বেসিক ব্যাংকের জন্য মতিঝিলে একটি ভবনের ১২টি ফ্লোর কেনার সঙ্গে দুর্নীতি হয়েছে কি না তা তদন্ত করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ভবনের নির্মাণকাজে অগ্রগতির আগেই ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করার ক্ষেত্রে জড়িতদের কেন্দ্র করে এ তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনে বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করবে। এ ছাড়া, সময়মতো ভবনের দলিল ও স্পেসের রেজিস্ট্রেশন ও দখল বুঝিয়ে না দেওয়ায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করবে বেসিক ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ উদ্যোগ নিচ্ছে ব্যাংকটি। এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

মতিঝিলে নির্মাণাধীন ১৫ তলা ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার’-এর প্রথম ১২ তলা পর্যন্ত ৫১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের ফ্লোর ৮০ কোটি টাকায় কেনার চুক্তি হয় ২০১০ সালে। ওই দিন ৪০ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময় কিস্তিতে আরো ৩৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে জমির মালিক ও ভবন নির্মাতা সিঙ্কু আক্তারুজ্জামানকে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সিঙ্কু ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিলেও আজ পর্যন্ত কাজ শেষ করেননি এবং ফ্লোরগুলো বেসিক ব্যাংকের নামে রেজিস্ট্রেশন করেও দেননি। তিনি উল্টো ভবনের ওপরে আরো সাততলা নির্মাণ করা হবে জানিয়ে তা ১৬১ কোটি টাকায় কিনে নিতে বেসিক ব্যাংককে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি নয়। বেসিক ব্যাংক গত বছর মে মাসে এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চায়। মন্ত্রণালয় গত ডিসেম্বরে ভবন কেনার সঙ্গে জড়িত বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দেয়।

এদিকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিজনেস রিসোর্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান সিঙ্কু আক্তারুজ্জামানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক গত ২৬ অক্টোবর বেসিক ব্যাংককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। ২০১০ সালের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় বেসিক ব্যাংককে সালিসের মাধ্যমে এরই মধ্যে কেনা ১২ তলার অতিরিক্ত সাততলা কেনার বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয় নোটিশে। এর জবাবে বেসিক ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ গত ২৭ নভেম্বর রফিক-উল হককে সালিসের জন্য নাম প্রস্তাবের অনুরোধ করে জানান, ব্যাংকের কেনা ১২ তলা পর্যন্ত ১২টি ফ্লোরের মোট ৫১,৫০০ বর্গফুট স্পেসের দলিল ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে আনুপাতিকহারে ভূমি ও ১৪টি কার পার্কিংয়ের জায়গা বুঝিয়ে দিতে হবে।

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আনুপাতিক ভূমিসহ বেসিক ব্যাংকের কেনা ১২টি ফ্লোর ও ১৪টি কার পার্কিংয়ের রেজিস্ট্রেশন ও দখল সময়মতো বুঝিয়ে না দেওয়ায় বিজনেস রিসোর্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করবে বেসিক ব্যাংক।

ভবন কেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল নোটিশের জবাব দেওয়াসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে গত ৪ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহম্মদ আউয়াল খান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের তখনকার পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে ব্যাংকের পক্ষে একজন মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষর করেছেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির ২০১০ সালের ৭ এপ্রিলের বৈঠকে ভবন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ভবন কেনার সময় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা জানতে ব্যাংকের অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিভাগকে গত ১৩ ডিসেম্বর নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরীক্ষায় অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৭ এপ্রিলই ভবন কেনার চুক্তি হয় এবং ওই দিনই ৪০ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের ভবন কেনার চুক্তি হওয়ার আগেই এবং ভবনের নির্মাণকাজে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ৪০ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, অডিট বিভাগ সেটিই তদন্ত করছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের (এখন চাকরিরত থাকুক বা না থাকুক) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বেসিক ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে, ভবন ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ব্যাংক ব্যবস্থাপনার নেই।


মন্তব্য