kalerkantho


আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন

‘বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’

নওশাদ জামিল   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’

পৃথিবীর বুকে রয়েছে নানা ভাষা, নানা জাতি। তার মধ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বে বাংলার অবস্থান পঞ্চম। বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস। রয়েছে ঐশ্বর্যশালী সাহিত্য ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশ, ভারতসহ পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষার বিশিষ্ট লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত হচ্ছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন। আগামী ১৩ জানুয়ারি শনিবার ‘বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি আঙিনায়। তাতে অংশ নিতে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে ঢাকায় আসছেন তিন শতাধিক বরেণ্য লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ নানা অঙ্গনের বিশিষ্ট বাঙালিরা। জমকালো এ সম্মেলনটির আয়োজক আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদ। সহযোগিতায় রয়েছে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ।

সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক ছয়টি সেমিনার। সাহিত্যের সঙ্গে শিল্পের মেলবন্ধন ঘটিয়ে পরিবেশিত হবে চারটি মঞ্চনাটক, প্রদর্শিত হবে দুটি চলচ্চিত্র, থাকবে সংগীত পরিবেশনা। বসবে কবিতা ও গল্প পাঠের আসর। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ১৩ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। তাতে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থাকবেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, হাসান আজিজুল হক, কবি নির্মলেন্দু গুণ। কবিতা পাঠ করবেন আসাদুজ্জামান নূর। গান পরিবেশন করবেন খায়রুল আনাম শাকিল, অনিমা মুক্তি গোমেজ ও শ্রাবণী সেন। ভারত থেকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সত্যম রায় চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সুনীলময় ঘোষ প্রমুখ।

ওসমানী মিলনায়তনে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টা থেকে বাংলা একাডেমিতে শুরু হবে সম্মেলনের মূল কার্যক্রম। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মঞ্চনাটকের মঞ্চায়ন, গল্প আবৃত্তি, সাহিত্যভিত্তিক আলোচনাসহ সম্মেলনের নানা অনুষ্ঠান।  সম্মেলনের শেষ দিন ১৫ জানুয়ারি একাডেমির নজরুল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন ভারতের সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

উন্মুক্ত এ সম্মেলনে অংশ নিতে নিবন্ধন করতে হবে   এই ঠিকানায়। একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ  মিলনায়তন ও কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনের সঙ্গে  বহিরাঙ্গনে রবীন্দ্র, নজরুল, লালন মঞ্চ এবং তাঁবুতে অনুষ্ঠিত হবে আয়োজন।

সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্যে চলছে তুমুল প্রস্তুতি। বাংলা একাডেমির ড. এনামুল হক ভবনের একটি কক্ষে নিরলস কাজ করছেন আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদের সদস্যরা। গতকাল সোমবার বিকেলে কথা হয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে। সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের সৃজন ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে আয়োজন করা হচ্ছে এ সম্মেলন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছিলেন আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন। পরে নানা কারণে তা আর হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় আবার আয়োজিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন। আশা করি, এখন থেকে তা নিয়মিত আয়োজিত হবে।’

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘ইতিহাস আশ্রিত বাঙালির সহস্র বছরের জীবন শিল্প-সাধনার কথা বলে। উচ্চারণ করে শান্তির বারতা। বাঙালির সেই ইতিহাস কখনোই বিভেদের কথা বলে না। বলে মানবিকতার কথা। সেই মানবিকতার আহ্বান ছড়িয়ে দেওয়াই হবে এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।’

বিষয়ভিত্তিক ছয়টি সেমিনারের সঙ্গে উপস্থাপিত হবে মঞ্চনাটক এবং সংগীত, গল্প ও কবিতা পাঠ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত বই এবং লিটল ম্যাগাজিনের বিক্রয় ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থাসহ আপ্যায়নের জন্য থাকবে রেস্তোরাঁ। ১৩ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলন উদ্বোধনের পর বিকেল ৫টা থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ সম্মেলন। রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে প্রথম দিনের আয়োজন।

প্রথম দিন আরো রয়েছে একাডেমির বহিরাঙ্গনে দুই চলচ্চিত্র ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ ও ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ প্রদর্শন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে ম্যাড থেটারের নাটক নদ্দিউ নতিম। এ ছাড়া সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও ভারতের কবি-সাহিত্যিকদের প্রীতি সম্মেলন। সন্ধ্যা ৬টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলা সাহিত্যের সমকালীন ছোটগল্প’ শীর্ষক আলোচনা।


মন্তব্য