kalerkantho


ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থিতা

২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী ঠিক করবেন খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী ঠিক করবেন খালেদা

গত রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

২০ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জোটপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নানা বিষয়ে আলোচনার পর মূলত তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে জোট। প্রার্থী নির্ধারণের ভার দেওয়া হয়েছে জোটপ্রধানের ওপর। এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের কোনো শরিক অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক থেকে চলতি মাসেই আলেম ও উলামা এবং আইনজীবীদের মহাসমাবেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাত ৯টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, উত্তর সিটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শিডিউল প্রকাশের আগে অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী হতে পারেন। তবে জোটপ্রধান খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যে প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন, তাঁর পক্ষেই জোটের শরিক হিসেবে জামায়াতে ইসলামী থাকবে।’

তিনি আরো জানান, বৈঠকে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। জোট নেতারা বলেছেন, বিএনপিপ্রধানকে মাইনাস করে কোনো নির্বাচন হবে না। সে নির্বাচনে কেউ অংশও নেবে না। চলতি মাসে একটি আইনজীবী সমাবেশ এবং আরেকটি আলেম-উলামা সমাবেশ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জোটের আরেক নেতা জানান, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের শরিকদের নিয়ে প্রচারণাসহ কোনো কাজে লাগানো হয়নি। এমন অভিযোগ করা হয়েছে খালেদা জিয়ার কাছে। জবাবে তাদের বলা হয়েছে, খুব দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে গুছিয়ে কাজ করা যায়নি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে জোটের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানানো হয়।

এর আগে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য আবদুল হালিম, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানী আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। জোটের শরিক লেবার পার্টির মধ্যে নেতৃত্বের বিভক্তির কারণে তাদের কোনো পক্ষকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সর্বশেষ গত ১৫ নভেম্বর ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।


মন্তব্য