kalerkantho


মিয়ানমারের সেনাপ্রধান আবারও রোহিঙ্গাদের অস্বীকার করলেন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হাজার বছর ধরে রাখাইন অঞ্চলে বসবাস করে আসলেও আবারও তাদের বিদেশি বলে অভিহিত করলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লিয়াং। একই সঙ্গে তিনি কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) পেছনে বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর মদদ ও সম্পৃক্ততা থাকার ইঙ্গিত করে আরসা মোকাবেলায় বিদেশি সহযোগিতা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। গত সোমবার নেপিডোতে সিঙ্গাপুরের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পেরি লিমের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয় তোলেন। থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মায় (ডিভিএম) গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

মিয়ানমারে অত্যন্ত প্রভাবশালী সিনিয়র জেনারেল মিন অং এমন এক সময় এ বিষয়গুলো তুলেছেন যখন বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ওই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান গত শুক্রবার আরসার কথিত হামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বেঙ্গলি’ সন্ত্রাসীরাই এ হামলা চালিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “কেউ নিজেদের রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু তারা আসলে ‘বেঙ্গলি’। ‘বেঙ্গল’ অঞ্চল থেকে বসবাসের জন্য তারা মিয়ানমারে গেছে। তাই তাদের অবশ্যই ‘বেঙ্গলি’ বলেই ডাকতে হবে।”

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের এসব বক্তব্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য হুমকি। বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার আশ্বাস দিয়েছিল তারা রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ বলে ডাকবে না। কিন্তু মিয়ানমার প্রায়ই তার বরখেলাপ করছে। আরসাকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী বললেও তারা আসলে কার হয়ে কাজ করছে তা নিয়ে এরই মধ্যে জোর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে গত বছরের ২৩ আগস্ট আনান কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরসা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল মিয়ানমার। এরপর মিয়ানমারের বাহিনী হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা এবং সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করেছে। 

এদিকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের জোরালো আশঙ্কা, আরসার সঙ্গে বিদেশি জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে। এ কারণে মিয়ানমার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে এ সমস্যা মোকাবেলায় সহযোগিতা নিতে চায়।


মন্তব্য