kalerkantho


নিকলীতে পাথরবাহী বাল্কহেডডুবি, নিখোঁজ তিন নৌযান শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নিকলীতে পাথরবাহী বাল্কহেডডুবি, নিখোঁজ তিন নৌযান শ্রমিক

কিশোরগঞ্জের নিকলীর সিংপুর বাজারের কাছে এমারচর ঘাটে পাথরবোঝাই একটি বাল্কহেড নৌযান ডুবে গিয়ে তিন মাল্লা নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন আল আমিন (২৭), মহসিন মিয়া (৪৬) ও মহিউদ্দিন মিয়া (৪৮)। তিনজনেরই বাড়ি বরগুনার তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

মোহসীন (৩৭) নামের ওই নৌযানের এক সুকানিকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। চার নৌযান শ্রমিকই নৌযানটিতে ছিলেন। এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রশাসনের যথাযথ উদ্ধার তৎপরতা তাদের চোখে পড়েনি। সে কারণে নিখোঁজ তিন শ্রমিককে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

প্রাণে বেঁচে যাওয়া সুকানি মোহসীন কালের কণ্ঠকে জানান, তিন দিন আগে সিলেটের ছাতক থেকে পাথর বোঝাই করে ‘আমাদের তরী’ নামের এ বাল্কহেড নৌযান নিয়ে নিকলীর সিংপুরে এসে বুধবার বিকেলে নোঙর করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি নৌযানের বাইরে বেরিয়ে আসেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে, নৌযানটি ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে নিজেকে রক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে এলাকাবাসী নদীতে নেমে তাঁকে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে।

সুকানি মোহসীন জানান, বাকি তিন শ্রমিকও নৌযানের ভেতরেই ছিলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাকি তিন শ্রমিককেও তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠতে দেখেছেন। তবে তিনি পানিতে পড়ে প্রায় অজ্ঞান ছিলেন। এ ছাড়া শীতে কাবু হয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয়রা সেবাযত্ন করে তাঁকে সারিয়ে তুলেছে। তাই শেষ পর্যন্ত বাকি শ্রমিকদের কী পরিণতি হয়েছে তা তিনি বলতে পারছেন না।

এলাকাবাসী জানায়, নৌযানটি অনেক পুরনো ছিল। সে কারণে পাথরের চাপে নৌযানের তলদেশ ফেটে ধীরে ধীরে নদীতে ডুবে যেতে পারে। বিকেল পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সিংপুরের মহিউদ্দিন মিয়া জানান, নৌযানটি নদীর কমপক্ষে ৩০ ফিট গভীরে ডুবে গেছে।


মন্তব্য