kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

সংবিধান পথরেখা দিয়েছে সংলাপ করতে হবে কেন?

নির্বাচনকালীন সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপির আলোচনার প্রস্তাবের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সংবিধান যে পথরেখা দিয়েছে তা বাদ দিয়ে আবার সংলাপ করতে হবে কেন? সংবিধান তো আছেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার, সুযোগ নয়। এ ছাড়া সরকার কি দয়া-দাক্ষিণ্য নিয়ে বসে আছে যে দয়া করবে? তাদের আর একবার সাধতে হবে কেন?’ তিনি গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার বিএনপির দেওয়া প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে তাত্ক্ষণিক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা নির্বাচনে আসবে সরকারের দয়ায় নয়। এটা তাদের বুঝতে হবে। এর পরও নির্বাচন করতে যদি কোনো অসুবিধা থাকত, যদি একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন না থাকত তাহলে কথা ছিল। আমাদের সব কিছুই তো ঠিক আছে। তাহলে বসাবসির কী প্রয়োজন? কোনো জটিলতা আছে বলে তো কেউ মনে করে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এখানে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে।  এটাই নিয়ম, এটাই সংবিধান। যখন সংবিধানে পথরেখা নির্দিষ্ট করা আছে, নতুন করে কেন সংলাপ? বিএনপির সঙ্গে কেন সংলাপ হবে। এখন আমরা সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। সে রকম যদি কোনো সংকট সামনের দিনগুলোতে দেখা যায়, তাহলে পরিস্থিতি বলে দেবে তখন কী করতে হবে।’

দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে নোংরা ভাষায় অসৌজন্যমূলক কথা বলেছেন খালেদা জিয়া, মনে আছে? সেদিন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে খালেদা জিয়া গণভবনে এলে গণতান্ত্রিক রাজনীতির চেহারাটা অন্য রকম হতো। সংলাপের পরিবেশ তাঁরাই নষ্ট করলেন। পুত্রহারা মাকে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিলেন তিনি। বিএনপি সংলাপের কথা যতই বলে, এটা তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। সংলাপের মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই। তারা সংলাপ চায় না। সংলাপের ইচ্ছা থাকলে নোংরা ভাষায় সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করত না তারা।’ ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আন্দোলনের নামে এবার কোনো আগুন-সন্ত্রাস হলে বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে মাঠেই প্রতিরোধ করবে। এ জন্য কোনো সংলাপের প্রয়োজন হবে না। এবার আর কোনো অচলাবস্থা তারা তৈরি করতে পারবে না। আগুন-সন্ত্রাস করে তারা যে ভুল করেছে, সেই ভুলের মাসুল তাদের আরো অনেক দিন দিতে হবে।’

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ পরবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই ভাষণ ইতিবাচক, গঠনমূলক ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভাষণ। দল-মত-নির্বিশেষে এমনকি বিএনপির সমর্থকরাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ইতিবাচক রাষ্ট্রনায়কসুলভ আখ্যা দিয়েছেন। এই ভাষণে জনগণ খুশি হয়েছেন, গ্রহণ করেছেন। কিন্তু হতাশাগ্রস্ত বিএনপি মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড আবারও বাজিয়েছে।’


মন্তব্য