kalerkantho


রাজশাহীর দুটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহীর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের ঘোষণা পেয়েই অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আগাম শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। নতুন বছরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও আগের নির্ধারিত শিক্ষার্থীরাই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভর্তি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের প্রতিষ্ঠান দুটির ভর্তি বাণিজ্য ক্ষুব্ধ করে তুলেছে অভিভাবকদের।

রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে সন্তানকে ভর্তি করানো এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অন্যদের কাছে শুনে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়েছিলাম এক নেতার সুপারিশসহ। তার পরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একজন সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানকে টাকা দেওয়া হয়েছে।’

মজিবুর রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘সন্তানকে ভর্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। তা দিতে না পারায় ভর্তি করানো হয়নি। তবে ঘনিষ্ঠ অনেকেই এ পরিমাণ টাকা দিয়ে সন্তানকে ভর্তি করিয়েছেন।’

শরিফুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ছেলে পরীক্ষা দিলেও সুযোগ হয়নি। ভালো পরীক্ষা দিলেও অনেকের নাম তালিকায় আসেনি। সরকারীকরণের ঘোষণার পর পরই কর্তৃপক্ষ স্কুলে গোপনে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কারণে এমনটা ঘটেছে বলে শুনেছি। অবৈধভাবে ভর্তি করাতে শিক্ষার্থীপ্রতি ২০-৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি।’

সূত্র জানায়, দেশের ১২টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারীকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ২ অক্টোবর আকস্মিক ২২০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় নগরীর কাজীহাটায় অবস্থিত রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শেণি পর্যন্ত এসব শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়। আর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করা হয় ৮০ জনকে। শিক্ষার্থীপ্রতি ২০-৩০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও আনুমানিক ১০ হাজার টাকা জমা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে। বাকি টাকা হরিলুট হয়েছে। গোপনে এ দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বছর লোক দেখানো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও নতুন কেউ ভর্তি হতে পারেনি। আগের তালিকার শিক্ষার্থীদের কৃতকার্য দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুটি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে একই নিয়মে। তবে এ নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান বলেন, ‘ভর্তি নিয়ে কোনো বাণিজ্য করা হয়নি। এ অভিযোগ ঠিক নয়।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গোপনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভর্তিসংক্রান্ত কিছু অভিযোগ এসেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’


মন্তব্য