kalerkantho


পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় পিরোজপুরের ১৪ মৎস্যজীবী আটকা

আসাম থেকে ফিরছেন ১৪ জন বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ১৪ জন মৎস্যজীবীকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব-মেদেনীপুর জেলায় আটকে রাখা হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে না পৌঁছানোয় জেলার পুলিশ প্রশাসন তাদের বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার অনুমোদন করছে না। ফলে অনাহার, অর্ধাহার ও তীব্র শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছে মৎস্যজীবীরা।

জানা যায়, বিকল হয়ে যাওয়ায় ২০ দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে ভেসে ছিল মৎস্যজীবীদের ট্রলার ‘চম্পা আখতার’। একপর্যায়ে ট্রলারটি ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ে। ওই সময় মৎস্যজীবীরা অনাহারে অসুস্থ ছিল। এরপর গত বছর ২৭ নভেম্বর পূর্ব-মেদেনীপুর জেলার উপকূল এলাকা শংকুরপুরের মৎস্যজীবীরা বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের উদ্ধার করে জেলার দিঘা সমুদ্রবন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর  জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়।

আটক বাংলাদেশি ট্রলারের প্রধান মাঝি জাকির হোসেন জানান, তাঁর দলে আছেন রোমিক মিয়া, সিয়াম সর্দার, মহম্মদ বাবুল, মহম্মদ সেলিমসহ ১৪ জন। ভারতীয় প্রশাসন রোজ যেটুকু সাহায্য দিচ্ছে তা দিয়ে কোনো রকম জীবন ধারণ করে বেঁচে আছেন। তা ছাড়া প্রবল শীতে উষ্ণ কাপড়ের সংকট। খুবই কষ্টে দিন কাটছে। 

আটকা পড়া বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের নাগরিকত্ব প্রমাণের কাজটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস করবে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলার কাউকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, কলকাতার উপদূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বি এম জামাল হোসেন বর্তমানে ছুটিতে কলকাতার বাইরে রয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে পূর্ব-মেদেনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেখান থেকে কোনো সবুজ সংকেত এসে পৌঁছায়নি।’

দিঘা ফিসারম্যান ও ফিস টেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাসও সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের নষ্ট হওয়া ট্রলারের মেরামতির কাজ শেষ। তবে আইনি অনুমোদন পেলেই সেই ট্রলারেই তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

আসাম থেকে ফিরছে ১৪ জন বাংলাদেশি : ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক সাজার মেয়াদ শেষ করে দেশে ফিরছেন। গৌহাটি উপদূতাবাস এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।

জানা যায়, আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলে ৫১ জন, শিলচর জেলে ৩৪ জন, তেজপুর জেলে ২৩ জন এবং কোকরাঝড়ে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক অনুপ্রবেশের অপরাধে সাজা ভোগ করেছেন। চারটি জেলে সব মিলিয়ে ১১১ জন বাংলাদেশি বন্দির অনেকেরই সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব প্রমাণের অভাবে এখনো জেল খাটছে তারা। এ তালিকার ১৪ জনের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার কাজ শেষ করেছে রাজ্যটির রাজধানী গৌহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাস।

সংশ্লিষ্ট উপদূতাবাসের সহকারী উপরাষ্ট্রদূত কাজী মুন্তাসের মোর্শেদ জানিয়েছেন, আপাতত ১৪ জনের নাগরিকত্বের প্রমাণ আমরা ভারতীয় প্রশাসনকে দিতে পেরেছি। বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জানুয়ারি মাসের শেষ দিকেই ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশে ফিরতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।



মন্তব্য