kalerkantho


নাখালপাড়ায় মেসে ‘জঙ্গি’ আস্তানা

‘জাহিদ’ কুমিল্লার মেজবা ৪ স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘জাহিদ’ কুমিল্লার মেজবা ৪ স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ার রুবি ভিলার মেসে অভিযানে নিহত জঙ্গিদের একজন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের বাদুয়ারা গ্রামের মেজবা উদ্দিন। নির্বাচন কমিশনে আঙুলের ছাপ যাচাই করে মেজবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাব গতকাল রবিবার তার বাবা, মা, স্ত্রী ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এনেছে বলে জানা গেছে।

নিহত মেজবার বাবার নাম এনামুল হক এবং মায়ের নাম তাহমিনা আক্তার। তার বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। মেজবা ঢাকার সায়েদাবাদে মুদি দোকান চালায় বলে জানত গ্রামের লোকজন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনে আঙুলের ছাপ যাচাই করে মেজবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মেজবাই ‘জাহিদ’ নাম দিয়ে রুবি ভিলায় মেসের কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। অন্য দুজনের পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রই ছিল ভুয়া। দুটি পরিচয়পত্রেই এক যুবকের ছবি ছিল। আবার একটিতে নাম ছিল ‘জাহিদ’ এবং অন্যটিতে ছিল ‘সজীব’।

এদিকে গতকালও রুবি ভিলার মালিকসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব। গতকাল ওই বাড়িতে গেলে মালিকপক্ষের কারো সঙ্গে কথা বলতে দেননি র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘দুটি পরিচয়পত্রই ভুয়া। জঙ্গিদের এই প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। জাহিদ বলে পরিচয় দেওয়া যুবকের ফিঙ্গার প্রিন্ট একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলে গেছে। ওই জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জাহিদের প্রকৃত নাম মেজবা উদ্দিন। তার বাবার নাম এনামুল হক ও মায়ের নাম তাহমিনা আক্তার। বাড়ি কুমিল্লায়।’ এ বিষয়ে র‌্যাব কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আর কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো একটি এসএমএসে বলা হয়, মেজবার মা, বাবা, স্ত্রী ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।

গতকাল রাত পর্যন্ত র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা, র‌্যাব-৩ অধিনায়ক, অপস অফিসার এবং কুমিল্লার র‌্যাব ১১-এর কম্পানি কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংশ্লিষ্টরা মেজবার পুরো ঠিকানা জানাননি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেজবার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের বাদুয়ারা গ্রামে। গতকাল দুপুরে র‌্যাব তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের চারজনকে নিয়ে আসে।

হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকার মানুষ মেজবা সম্পর্কে বেশি কিছু জানে না। সে ঢাকায়ই থাকত।’

হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, মেজবা ১৫-১৬ বছর ধরে ঢাকায় থাকে। এলাকার লোকজন জানে সে সায়েদাবাদ এলাকায় মুদির দোকান চালায়। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসত। তার ছোট ভাই মোসলেহ উদ্দিন বাড়িতে থাকে। তাদের বাবা এনামুল হক স্থানীয় মসজিদের ইমাম। সাত মাস আগে বিয়ে করে মেজবা।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেজবার জন্ম ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৯৩১৯১৭৪৩১০০৪০। এই মেজবাই জাহিদ পরিচয় দিয়ে রুবি ভিলার মেসের ব্যবস্থাপক রুবেলের কাছ থেকে একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। গত ৪ জানুয়ারি সে এবং গত ৮ জানুয়ারি ‘ভাই’ পরিচয় দেওয়া অন্য দুজন সেখানে ওঠে। তারা তিনজনই গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একই ছবি থাকা দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করে র‌্যাব। তিনজনের কেউই ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করেনি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, নিহত মেজবা জেএমবির জঙ্গি। সে একটি দলের সঙ্গে মিলে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। এ ব্যাপারে তথ্য বের করার চেষ্টা করছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

নিহত অন্য দুজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, ‘অন্য দুজনের পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’


মন্তব্য