kalerkantho


পুঠিয়ার ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে ১৫ খুনসহ ৫ অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পুঠিয়ার ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে ১৫ খুনসহ ৫ অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত

মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে অভিযোগ এনে রাজশাহীর পুঠিয়ার ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গতকাল রবিবার ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এটি প্রকাশ করা হয়। একাত্তরের স্থানীয় শান্তি কমিটির দুর্ধর্ষ ও দাপুটে সদস্য হিসেবে ফিরোজ খাঁ তাঁর এলাকায় বেশ আলোচিত বলে জানা যায়।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক ও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন। আব্দুল হান্নান খান তদন্ত প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পুঠিয়ার বাঁশবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মো. আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের আগে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে শান্তি কমিটির স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঠিয়ার ভালুকগাছি ইউনিয়নের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের (মৃত) নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর হয়ে এই আসামি পুঠিয়া ও দুর্গাপুর এলাকায় এসব অপরাধ ঘটান। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় চার সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন ছাড়াও অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনে চূড়ান্ত করা হয় প্রতিবেদনটি। এ বছরের প্রথম ও তদন্ত সংস্থার ৫৮তম তদন্ত প্রতিবেদন এটি। ফিরোজ খাঁর পূর্বপুরুষরা ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে আসা। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সেখানে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সানাউল হক বলেন, ‘২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মুসা ওরফে ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা। তদন্তের সময় দেখা গেছে, আসামি একাত্তর সালে রাজশাহীর পুঠিয়া থানা ও দুর্গাপুর থানা এলাকায় ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ৮-১০টি বাড়িঘর লুণ্ঠনসহ ৫০-৬০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া যায়।’ তিনি বলেন, এ মামলার তদন্ত শুরুর আগেই পাঁচ অভিযুক্ত মারা গেছেন। আসামি আব্দুস সামাদ মুসা একাই বেঁচে আছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আসামি মুসা একজন ধূর্ত মানুষ। একাত্তরের পর তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের আসল বয়স লুকিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র করেন। সেই অনুযায়ী তাঁর বয়স ৬১ বছর হলেও আমরা তদন্তের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত বয়স জানতে পেরেছি। আশা করছি ট্রাইব্যুনালে এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।’


মন্তব্য