kalerkantho


আরডিএর প্লট বণ্টনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারণ ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ৩১টি প্লট বণ্টনে অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই তদন্ত শুরু করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কাশেম।

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে অতিরিক্ত সচিব ইতিমধ্যে কয়েকবার রাজশাহীতে এসেছেন। তিনি পৃথকভাবে প্লট বরাদ্দ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ওই প্লটসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল আরডিএর বনলতা প্রকল্পে ৩২টি প্লট বরাদ্দের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বছরের ২৫ মে পর্যন্ত ১৫৪টি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে প্লটের বরাদ্দের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো লটারি না করেই ৩১টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে। আরডিএর চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে ১৮টি প্লট ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। এই প্লটগুলো আয়তনে অপেক্ষাকৃত বড়। গোটা পাঁচেক প্লট সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে বরাদ্দ দিয়ে বাকিগুলো দেওয়া হয় স্থানীয় নেতাদের। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকারের বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নজরে আসে।

তদন্ত সূত্র জানায়, বেছে বেছে আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ছয় কাঠা, পাঁচ কাঠা, চার কাঠা ও সাড়ে তিন কাঠার মূল্যবান প্লটগুলো লটারিতে কিভাবে উঠল কিংবা আদৌ লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করতে নানাভাবে চেষ্টা-তদবির চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ‘নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। কিভাবে আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতসংখ্যক প্লট পেয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই করে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

এসব নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


মন্তব্য