kalerkantho


আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন

সাহিত্যপ্রেমীদের পদচারণে মুখর বাংলা একাডেমি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেশ-বিদেশের লেখকদের আগমনে মুখর বাংলা একাডেমি। প্রাণবন্ত আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন। সম্মেলনে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হয় নানা বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। সেখানে নানা আলোচনা ছিল যেমন উপভোগ্য তেমনি তথ্যবহুল। বিকেলে ছিল আবৃত্তির আয়োজন। আর নানা স্টল ঘুরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের বই সংগ্রহ করার আনন্দটুকু তো ছিলই। আরো ছিল মঞ্চনাটক পরিবেশনা ও লোকগানের আসর। সব মিলিয়ে দারুণ কেটেছে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনটি।

‘বিশ্ব মানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’—এ প্রতিপাদ্যে দুই বাংলার সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদ। আর আজ সোমবার এ সম্মেলনের শেষ দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন ভারতের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনটি বসে সকালে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়নে। ‘বাংলা সাহিত্যে দেশভাগের অভিঘাত’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন ভারতের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক-প্রাবন্ধিক ড. রামদুলাল বসু, অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, ত্রিপুরার কবি দেবব্রত দেব রায়, কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার ও ভারতের কবি-লেখক বীথি চট্টোপাধ্যায়।

সেলিনা হোসেন বলেন, দেশভাগের অভিঘাতে রচিত গল্প, কবিতা ও উপন্যাসে মানবজীবনের বিপর্যয়, হাসি-কান্না-আনন্দ-বেদনার চিত্রটি বারবার উঠে এসেছে। দেশভাগের সত্তরটি বছর কেটে গেছে, জীবনের এসব গল্পই বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

রামদুলাল বসু বলেন, ‘দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর তত্ত্বটি ব্যর্থ হয়ে যায় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে। তবে এই তত্ত্বের দর্শনের দিকটি আমাদের ভাবতে হবে এখন। দেশভাগের অভিঘাতে রচিত সাহিত্যে বাঙালির সামাজিক চিত্র কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, চলমান জীবনের ছবি কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, তা এখন বিবেচ্য বিষয়। দেশভাগের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত কথাসাহিত্যের পটপরিবর্তন একটি ঐতিহাসিক ফলশ্রুতি।

একই মিলনায়তনে দুপুরে বসে ‘সাহিত্য ও চলচ্চিত্র’ শিরোনামে দিনের দ্বিতীয় সেমিনার। এতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গবেষক সাজেদুল আউয়াল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন চলচ্চিত্রকার মশিউদ্দিন শাকের, চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জন, সুবোধ সরকার, শামীম আখতার, ও আসানসোলের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোনালিসা দাস।

গৌতম ঘোষ বলেন, ‘মগজের বিবেচনায় পাঠক বা দর্শক সাহিত্যকে একভাবে নেবে, চলচ্চিত্রে নেবে ভিন্নভাবে। সাহিত্যের বর্ণ, শব্দ, বাক্যকে পাঠক যেভাবে নেবে, চলচ্চিত্রে এসে পাঠক তা নেয় ঠিক উল্টোভাবে। তবে সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মধ্যে বিরোধ নেই। সাহিত্য চলচ্চিত্রে অনূদিত হয় না, রূপান্তরিত হয়। সাহিত্যিকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচালকের অভিজ্ঞতা মিলে গেলে তা হয় মণিকাঞ্চনযোগ।’


মন্তব্য