kalerkantho


বন্দির সাক্ষাত্প্রার্থীর কাছে ঘুষ দাবি

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা কেন্দ্রীয়

কারাগারে দুদকের অভিযান

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদির সাক্ষাত্প্রার্থীর কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্ট্রাইকিং ফোর্স। তবে এ সময় ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ নম্বরে ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে কমিশন গতকাল সোমবার সকালে ওই ঝটিকা অভিযান চালায়।

দুদকের উপপরিচালক মো. মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল সশস্ত্র পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ওই অভিযানে বের হয়। ওই দলের অন্য দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬-এ এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর কাছে ঘুষ দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁর স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন অভিযোগ পেয়ে অভিযোগ কেন্দ্র থেকে বিষয়টি কমিশনের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মুনীর চৌধুরীকে জানানো হয়। মহাপরিচালক অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে দুদকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল গঠন করেন। তারা দুদকের সশস্ত্র পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।

দুদক টিম সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে। এর মধ্যে মুশফিকুর রহমান নামের একজন ভুক্তভোগী জানান, কারাগারে আটক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার শর্তে তাঁর কাছে ৫০০ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়; কিন্তু তাঁর কাছে ৫০০ টাকা না থাকায় এবং ব্যক্তিগতভাবে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি এখনো বন্দি স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তবে টাকা দাবি করা ওই ব্যক্তিকে এ সময় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর দুদক টিম একাধিক সাক্ষাত্প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেও একই রকমের অভিযোগ পায়।

পরে দুদক টিম কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে দেখা করে ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। তবে তিনি ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁদের কাছে কখনো এমন অভিযোগ আসেনি। তা ছাড়া বাইরে জেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও অভিযোগের জন্য ফোন নম্বর দেওয়া আছে। কেউ চাইলে সেখানে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে অংশ নিয়েছেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইনে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে থাকি। হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সেবাদান প্রত্যেক সরকারি চাকুরের দায়িত্ব। কারাগারে ভুক্তভোগী অনেকেই হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ করলেও অভিযুক্ত কাউকে সরাসরি পাওয়া যায়নি। যেখানেই ঘুষ ও অনিয়ম, সেখানেই দুদক টিম অভিযান চালাবে।’


মন্তব্য