kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন মাদরাসা শিক্ষকরা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে নিষ্ফল বৈঠকের পর অনেকটা হতাশ মাদরাসা শিক্ষকরা। এখন তাঁরা তাকিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দিকে। গতকাল সোমবার দুপুরে পরিবহন পুল ভবনে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে প্রতিমন্ত্রী পরবর্তী অগ্রগতি জানাবেন বলে শিক্ষকদের জানিয়েছেন।

তবে কোনো অবস্থায়ই সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া মাদরাসা শিক্ষকরা বাড়ি ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁরা আমরন অনশন চালিয়ে যাবেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল তাঁরা সপ্তম দিনের মতো অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগে বছরের প্রথম দিন থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা সমিতির ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। অনশনের সপ্তম দিন গতকাল পর্যন্ত ১৮৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেতারা।

গতকাল অনশনস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়ে বসে আছেন মাদরাসা শিক্ষকরা। অনশনস্থলে কোনো কোনো শিক্ষককে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ অনশনে দুর্বল হয়ে পড়া শিক্ষকরা মাঝেমধ্যেই বসা থেকে শুয়ে পড়ছেন।

অনশনস্থলের সামনের দিকে বসা শিক্ষকদের হাতে প্ল্যাকার্ড। একজনের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘৩২ বছর ধরে বেতনবঞ্চিত, আর কত কাঁদবো’; আরেকজনের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘হামরা খুব কষ্টে আছি’ ইত্যাদি।

সুফিয়া বেগম নামের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। এক টাকাও বেতন না পেয়ে নিয়মিত মাদরাসায় ক্লাসে যাই। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দিকে নজর দেওয়া হয় না।’

আজিজুল হক নামের আরেকজন শিক্ষক বলেন, ‘১৫ দিন ধরে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। তীব্র শীতটা রাস্তার ওপরই কাটিয়ে দিলাম। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই। বাথরুম করার জায়গা নেই। রাতে প্রচণ্ড শীতে সবাই কাঁপতে থাকি। অথচ আমাদেরকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। এই অবস্থায় আমরা কিভাবে মানুষ গড়ব সে কথা কেউ চিন্তা করে না।’

সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ডাকা হচ্ছে। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সুস্পষ্ট ঘোষণা না পেলে আমরা অনশন ভাঙব না। বর্তমানে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি।’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনশন : শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল প্রথম দিনের মতো অনশন পালন করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এর আগে তাঁরা পাঁচ দিন একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এমপিওভুক্ত পাঁচটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।

লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ। এ নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা চাই আমরা। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব আমরা।’

অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে ৯টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির যৌথ মোর্চা গতকাল সারা দেশে মানববন্ধন করেছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, ‘একই পড়ালেখা করিয়ে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা এক রকম সুবিধা পান আর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আরেক রকম সুবিধা পান। আমাদের প্রধান দাবি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।’


মন্তব্য