kalerkantho


নাখালপাড়ায় জঙ্গি অভিযান

‘পরিবারকে মেজবা বলেছিলেন জান্নাতে দেখা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘রুবি ভিলার’ মেসে নিহত হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্ত্রী ও মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন র‍্যাবের অভিযানে নিহত মেজবা উদ্দিন। স্ত্রী ও মাকে তিনি বলেছিলেন, ‘জান্নাতে দেখা হবে।’ এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মেজবার পরিবার গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় ছেলে ‘নিখোঁজ’ জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জেনেছে র‍্যাব।

র‍্যাবের অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন তিন জঙ্গির মধ্যে এখনো দুজনের পরিচয় মেলেনি। র‍্যাব বলছে, নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে শনাক্ত হওয়া মেজবার সঙ্গে নিহত দুজনের পূর্বপরিচয় ছিল বলে র‍্যাব মনে করছে। প্রাথমিক তদন্তে নিহত মেজবার সঙ্গে তাদের চলাফেরা করার তথ্য র‍্যাব পেয়েছে।

র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, অভিযানে নিহত একজনের পরিচয় মিলেছে। অন্য দুজনের পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর মেজবার সঙ্গে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়া দুই যুবকের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

মেজবা উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, মেজবার বাবার নাম মাওলানা এনামুল হক। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বাদুয়ারায়। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মেজবা চতুর্থ। মনোহরগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন তিনি। ২০০৭ সালে রাজধানীতে আসার পর সায়েদাবাদ এলাকায় একটি মোটর গ্যারেজ ভাড়া নেন। পরে যাত্রাবাড়ীর জনপথ মোড়ে ‘মেজবা টায়ার শপ’ নামে নিজে একটি মোটর গ্যারেজ চালু করেন।

মেজবা যাত্রাবাড়ী জনপথ মোড় এলাকার একটি মেসে থাকতেন। র‍্যাব সূত্র জানায়, এ সময় তিনি মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি ধর্মকর্ম পালনও শুরু করেন। বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে। মেজবা গত বছরের ২৮ মে পারিবারিকভাবে তাঁর পাশের গ্রামের শারমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর স্ত্রীকে বলেন, প্রচলিত রাষ্ট্র ও সমাজের নিয়ম তিনি সমর্থন করেন না। গত ২০ অক্টোবর তিনি গ্রামের বাড়ি যান। তাঁর সঙ্গে ওই সময় দুই যুবক ছিল।

অপরিচিত ওই যুবকদের বিষয়ে মেজবা পরিবারের সদস্যদের বলেন, তারা তাঁর মায়ের পেটের ভাইয়ের থেকেও বেশি আপন। ২৬ অক্টোবর তিনি পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গ্রাম ছাড়েন। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় একটি মেসে র‍্যাব অভিযান চালায়। এতে মেজবাসহ তিনজন নিহত হয়। ওই বাড়ির মালিক শাহ মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট পার্সার। নিহতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সদস্য বলে র‍্যাব জানায়। ঘটনাস্থল থেকে র‍্যাব তিনটি হ্যান্ড গ্রেনেড, তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট, দুটি বিদেশি পিস্তল, ১৪টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর ও চারটি পাওয়ার জেল উদ্ধার করে।


মন্তব্য