kalerkantho


সংশোধিত আইনের খসড়া হাইকোর্টে দাখিল

শিশু অপরাধী হলে বিচার শিশু আদালতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি শিশু হলে তার বিচার হবে শিশু আদালতে। আর আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে—এ রকম বিধান করতে যাচ্ছে সরকার। এ ছাড়া আইনে তদন্ত শেষে আলাদা আলাদা আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ বিধানসংবলিত আইনের খসড়া গতকাল সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

খসড়াটি পাওয়ার পর আদালত আশা প্রকাশ করেছেন যে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই এ আইন পাস হবে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শিশু (সংশোধন) আইন-২০১৮-এর খসড়া দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন শামীম।

আদালত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা কাজটা তাড়াতাড়ি হোক।’

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে সে বিষয়টি শিশু আইন-২০১৩-এ অস্পষ্ট থাকায় আইনটি সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছর ১২ নভেম্বর এ আদেশ দেওয়ার পর সরকার শিশু আইন-২০১৩ সংশোধন করে খসড়া তৈরি করে। আইনের ৩২ ধারায় সংশোধনী আনছে সরকার।

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ঢাকা, কক্সবাজার ও রংপুরে করা পৃথক চার মামলায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করে। চারটি মামলার মধ্যে দুটি করা হয় শিশু আইনে, অন্য দুটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। পৃথক দুই আইনে দায়ের হওয়া মামলার সাজাও আলাদা।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে সে বিষয়ে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট তিন সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। কিন্তু সচিবরা (আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব) ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়। এরপর তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জানান যে আইনের খসড়া করা হয়েছে। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।


মন্তব্য