kalerkantho


সমাবেশে শামীম ওসমান

হকারদের পেটে লাথি মারা সহ্য করা হবে না

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে না খাইয়ে রাখার রাজনীতি করেন না। দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য রাজনীতি করেন। সেই নেত্রীর দেশে এভাবে হকারদের পেটে লাথি মারা হবে, সেটা সহ্য করা হবে না।’

গতকাল সোমবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়া এলাকার সলিমুল্যাহ সড়কে আয়োজিত হকারদের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ফুটপাতে হকার বসতে না দেওয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশ ডাকা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক হকার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিল। সমাবেশে হকার নেতারা পুনর্বাসনের আগে ফুটপাতে বসার দাবি জানান।

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি শামীম ওসমান অনুরোধ নয়, নির্দেশ দিলাম ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৫টা থেকে শহরে হকার বসবে। আর আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হকার বসবে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে আমাকেও ডাকতে পারেন। আলোচনার টেবিলে বসেন।’

পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, কোনো পুলিশ হকারদের লাথি তো দূরের কথা গালিও দিতে পারবে না। হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে যদি ওঠানোর চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা হবে শামীম ওসমানের মৃত্যুর পর।’

হকার বসা নিয়ে সিটি করপোরেশন ও সেলিম ওসমান এমপির চিঠি চালাচালি প্রসঙ্গ টেনে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান চিঠি দিয়েছিলেন। সিটি করপোরেশনের কর্মচারী দিয়ে উত্তর দিয়ে দিবেন, এটা হতে পারে না। উনি ভদ্র মানুষ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমি সেলিম ওসমান না, শামীম ওসমান। আমি কোনো অনুরোধ করব না।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি মনে করেছিলাম, ২৫ দিনে হকার ইস্যুতে বিএনপি অনেক কিছু করবে। কিন্তু তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। বিএনপির এমন কাপুরুষত্ব রাজনীতি প্রমাণিত।’

সমাবেশে তিন শিশুসন্তানকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী রানী দাস। তিনি তাঁর কষ্টের সংসারের বর্ণনা দেন। সুরুজ বেপারী নামে এক হকার কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘নিজেরা না খেয়ে বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধ আর ঋণের টাকা জোগাড় করছি।’

ষাটোর্ধ্ব ইমান আলী নামে এক হকার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মাইয়ার সরকার গরিবের পেটে লাথি দেয় না। তাইলে আমাগো পেটে লাথি কেন, জবাব দেন।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ সিপিবি ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় হকার্স ইউনিয়নের সদস্য কবির হোসেন, ইকবাল হোসেন, আবদুর রহিম মুন্সী, আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।


মন্তব্য