kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদার পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল ঢাকার বকশীবাজারে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গতকাল মঙ্গলবার ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এটা আসলে কোনো মামলাই না। এ রকম মামলা বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ঘায়েল করার জন্য করা হয়ে থাকে। এখানেও তাই হয়েছে। এতে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়বে। তিনিই হবেন বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী।’

বিএনপি নেত্রীর পক্ষে ১০ দিন ধরে পাঁচ আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন প্রদান ও এ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

খালেদা জিয়া গতকাল রাজধানীর বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালত-৫-এ উপস্থিত হন সকাল সাড়ে ১১টায়। তিনি আসার পাঁচ মিনিট পর মামলার কার্যক্রম শুরু করা হয়। মওদুদ আহমদ যুক্তিতর্ক শুরু করে আরো বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীনে মামলাটি করা হয়েছে। তবে এই মামলার প্রক্রিয়া, অনুসন্ধান ও তদন্তকাজে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাই এ মামলা চলারই কথা না।’ আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সব যুক্তি বিবেচনায় আপনি খালেদা জিয়াকে সম্মানজনকভাবে নিঃশর্ত খালাস দেবেন বলে আশা করি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অবরুদ্ধ অবস্থায় মামলা করছি। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর মামলা উন্মুক্ত স্থানে ট্রায়াল হলে ভালো হতো। বিশেষ স্থানে এজলাস বসিয়ে মামলা করা ঠিক হয়নি।’ এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এ ধরনের আদালতে বিচার চলত। মওদুদ আহমদ এ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় থেকেও বিভিন্ন অংশ আদালতে পড়ে শোনান।

ব্যারিস্টার মওদুদ শুনানিতে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নজির হিসেবে উপস্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সংশ্লিষ্ট ১৯৬৪ সালের এমন একটি মামলার উদাহরণ টেনে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্তটি ছিল বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। কিন্তু তাঁদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। বরং তাঁদের জনপ্রিয়তা বেড়েছিল। ওই মামলার ঘটনার মতো এই মামলার কারণেও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়বে।’

মওদুদ বলেন, এই মামলার ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো অনিয়মও থাকে, তাহলেও এ মামলা হয় না, কারণ খালেদা জিয়া বা অন্য আসামিদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এ মামলা ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘অবৈধ সরকারের’ আমলের মামলা। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অপব্যবহার করে এটি দায়ের করা হয়।

খালেদার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর : মওদুদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক অসুবিধার কারণে খালেদা জিয়া আগামী দুদিন তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতি থেকে অব্যাহতি চান। তিনি খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনও প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এর আগে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না মর্মে হাইকোর্ট থেকে তাঁর আইনজীবীদের আনা একটি আদেশের উল্লেখ করে কাজল বলেন, এই মামলার সব কার্যক্রম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পরিচালনার জন্য হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি আছে।

খালেদা জিয়ার শুনানি শেষে আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে শুনানি শুরু হয়। এই মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ মোট ছয়জন আসামি।


মন্তব্য