kalerkantho


আশুগঞ্জে রিফাত হত্যা

গ্রেপ্তার একজন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গ্রেপ্তার একজন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অপহরণের পর শ্বাসরোধে শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন সোলায়মান (২২) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের দাবি, শিশু রিফাত হত্যাকাণ্ডে অন্তত তিনজন জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সোলায়মান ও সোহাগকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সোলায়মান জানায়, এর আগেও তাদের সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে। রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিজান নামের আরো একজন জড়িত। তাকে আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বয়লারে পাওয়া যেতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই বয়লারের কাছে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সোলায়মান পুলিশের হাতছাড়া হয়ে যায়। দুই পক্ষে গোলাগুলি শেষে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সোলায়মানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি কার্তুজ, দুই রাউন্ড গুলির খোসা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। হামলা-বন্দুকযুদ্ধের সময় সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেল) মো. মনিরুজ্জামান ফকির, আশুগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার, এসআই বাপন চক্রবর্তী ও আমজাদ হোসেন আহত হন।

সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডে তিনজন জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা হলে জীবন বাঁচাতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সোলায়মান তার সহযোগীদের গুলিতে প্রাণ হারায়। রিফাত হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মিজান নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে শিশু রিফাতের লাশ গত সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার আঁখিতারা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রিফাতের লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল দুপুরে রিফাতের বাবা বাহার মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যায় জড়িত কেউ মারা গেছে কি না জানি না। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

প্রসঙ্গত, অপহরণের ১০ দিন পর সোমবার ভোরে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের খড়িয়ালা গ্রামের মুমিন মিয়ার বাড়ির বাথরুমের ওপর থেকে রিফাতের বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।


মন্তব্য