kalerkantho


পাবনায় খোকন হত্যায় স্ত্রীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাবনা সদরে মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) হত্যার দায়ে তাঁর স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

দণ্ডিতরা হলেন পাবনা সদরের গোপালপুর এলাকার গোলাম মোহাম্মদের মেয়ে (খোকন মৃধার স্ত্রী) কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬), একই জেলার আতাইকুলা উপজেলার রানীনগর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে (বিউটির পরকীয়া প্রেমিক) রুহুল আমিন (৪৭) এবং তাঁর সহযোগী একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৪৫)। রায় ঘোষণার সময় শুধু কুলসুম নাহার বিউটি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহত মোশাররফ পাবনা সদরের টেকনিক্যাল মোড়ের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু সাংবাদিকদের জানান, টাকার ওপরে মোবাইল নম্বর পাওয়ার সূত্র ধরে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা বিউটির সঙ্গে কথা হতো রুহুল আমিনের। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক বছর ধরে চলা এ পরকীয়ার জেরে তাঁরা অবৈধ শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁদের ‘পথের কাঁটা’ মোশাররফ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে বিউটির পরকীয়া প্রেমিক রুহুল আমিন তাঁর বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাসায় যান। এরপর তাঁরা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন।

মোশাররফ ঘরে ফিরলে গভীর রাতে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহ বস্তায় ঢোকানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান। তবে ওই রাতেই পাবনা সদর থানা পুলিশ মোশাররফের বাড়ি থেকে তাঁর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা হয়।

মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালতে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান রুমন।


মন্তব্য