kalerkantho


বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে আজ

মো. মাহবুবুল আলম, টঙ্গী (গাজীপুর)   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। রবিবার জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের পরই সমাপ্তি ঘটবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। তবে গত বুধবার বিকেল থেকেই তুরাগ নদের তীরে বিশাল ময়দানের উদ্দেশে মুসল্লিদের স্রোত শুরু হয়েছে। আজ ইজতেমা ময়দানে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার জন্য পুরো ময়দানকে জেলাওয়ারি ২৮টি খিত্তায় সাজানো হয়েছে।

বিশ্বের শতাধিক বিদেশি রাষ্ট্রের মেহমানসহ ১২ থেকে ১৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নেবে বলে আয়োজকদের ধারণা। দেশি-বিদেশি ইসলামী চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামরা ছয় উসুল তথা-ইমান, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমীন, তাসহীহে নিয়ত, দাওয়াত ও তাবলিগ সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান বয়ান রাখবেন। মূল বয়ান সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভাষাভাষিদের মাঝে তরজমা করে শোনানো হবে।

আজ শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আমবয়ান শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকেই খিত্তায় অবস্থানকারী মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান শুরু হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক প্রায় ১৮০টি বিশেষ ছাতা মাইকসহ ৪৯০টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

বিদেশি মেহমানদের আবাসন কামরা, ইজতেমার আয়োজক তাবলিগ জামাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কামরা, প্রথম পর্বের লাখো মুসল্লির ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট, ময়দানের চারপাশে তৈরি করা হাজার হাজার কাঁচা-পাকা শৌচাগার, অজু-গোসল ও রান্নাবান্নার স্থান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও এরই মধ্যে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

গতকাল ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লির সমাগমকে কেন্দ্র করে টঙ্গী, উত্তরা, তুরাগ, কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভাসমান দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ। এসব দোকানপাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য রাখা হচ্ছে দুই-তিন গুণ বেশি। এতে এলাকাবাসী ও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ চারটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প, হৃদরোগ ইউনিট, বক্ষব্যাধি ও অ্যাজমা ইউনিট, ১৪টি অ্যাম্বুল্যান্সসহ চিকিৎসাব্যবস্থা প্রথম পর্বের মতোই অব্যাহত থাকবে। বিনা মূল্যে চিকিৎসার জন্য স্থাপিত ৪৫টি চিকিৎসাসেবাকেন্দ্র তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রেখেছে। প্রথম পর্বের মতোই ছয় স্তরের নিরাপত্তায় ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় আট হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইজতেমার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা ময়দানে নিজ নিজ খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছে। শুক্রবার ফজর নামাজের পূর্বেই জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা ময়দানে উপস্থিত হবেন। তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আশা করি আল্লাহর রহমতে এ পর্বেও নির্বিঘ্নে ইজতেমা শেষ হবে।

দ্বিতীয় পর্বে খিত্তাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান : দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা জেলা (খিত্তা নম্বর-১-১০), ১৮ ও ১৯), জামালপুর (খিত্তা নম্বর-১১ ও ১২), ফরিদপুর (খিত্তা নম্বর-১৩), ফরিদপুর (খিত্তা নম্বর-১৪), ঝিনাইদহ (খিত্তা নম্বর-১৫), ফেনী (খিত্তা নম্বর-১৬), সুনামগঞ্জ (খিত্তা নম্বর-১৭), চুয়াডাঙ্গা (খিত্তা নম্বর-২০), কুমিল্লা (খিত্তা নম্বর-২১ ও ২২), রাজশাহী (খিত্তা নম্বর-২৩ ও ২৪), খুলনা (খিত্তা নম্বর-২৫ ও ২৭), ঠাকুরগাঁও (খিত্তা নম্বর-২৬) ও পিরোজপুর (খিত্তা নম্বর-২৮) অংশ নেবেন।


মন্তব্য