kalerkantho


তিন ছাত্রীকে ইভ টিজিং

বুয়েটের তিন শিক্ষককে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তদন্তকারী তিন শিক্ষককে গতকাল বৃহস্পতিবার তলব করেছেন হাইকোর্ট। তাঁদের আগামী বুধবার আদালতে হাজির হয়ে এসংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

যে তিন শিক্ষককে তলব করা হয়েছে তাঁরা হলেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান, কমিটির সদস্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ।

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল ওই তিন শিক্ষককে আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা প্রদানের আদেশ দেন। তিন ছাত্রীর করা পৃথক তিনটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। বুয়েটের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সৌরভ কর্মকার।

২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বুয়েটের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে তিন ছাত্রী ইভ টিজিংয়ের অভিযোগ আনেন। অভিযোগের তদন্তে বুয়েট কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। এরই মধ্যে তিন ছাত্রী অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। এ অবস্থায় তদন্ত কমিটি ওই বছর ৩ জুন প্রতিবেদন দেয়। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ সে বছরই তিন ছাত্রীকে শাস্তি হিসেবে তিন টার্মের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করে এবং আজীবনের জন্য আবাসিক হল থেকে তাঁদের বহিষ্কার করে।

বুয়েট কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই বছরই রিট করেন তিন ছাত্রী। রিটে বলা হয়, চাপের মুখে তাঁরা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বুয়েটের দেওয়া বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেন এবং এ বহিষ্কারাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। গতকাল রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু আদালত বুয়েটের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর মনে করছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ইভ টিজিংয়ের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এর ভিত্তিতে গতকাল আদালত রায় ঘোষণার পরিবর্তে তদন্ত কমিটির তিন শিক্ষককে তলব করেন।


মন্তব্য