kalerkantho


চিকিৎসার আওতায় ১ শতাংশেরও কম মাদকাসক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেশে মাদকাসক্তের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এই বিপুল মাদকাসক্তের জন্য সরকারি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে মাত্র চারটি। অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১৯৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানের শয্যাসংখ্যা দুই হাজার ৩৮০। এই কেন্দ্রগুলোতে গত ১০ বছরে প্রায় ৬০ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিয়েছে। দেশে কিছু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানও আছে। এসব প্রতিষ্ঠানেও চিকিৎসা নেয় মাদকাসক্তরা। তবে সব মিলিয়ে মোট মাদকাসক্তের ১ শতাংশেরও কম চিকিৎসাসেবার আওতায় আছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব জেলায় নিরাময় কেন্দ্র নেই সেখানে তা চালু করা ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদক বর্তমান সমাজের একটি ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৭০ লাখ মাদকাসক্তকে সেবা দিয়ে মূল ধারায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মাদকের ছোবলে আর কোনো সন্তান ঐশীর মতো নিজের মা-বাবার খুনিতে পরিণত হোক সেটা আর চাই না। তিনি বলেন, ‘মাদক নির্মূলে আমাদের ল্যাব, জনবল ও প্রশিক্ষণ দরকার। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য যা করা দরকার সে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সুবিধাগুলো বাড়বে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনিশ বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ ও সবল করে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, সারা দেশের ৩৭টি জেলায় মোট দুই হাজার ৩৮০ শয্যার সরকারি চারটি ও বেসরকারি ১৯৭টি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে ১০ বছরে ৬০ হাজার ২৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছে। মোট মাদকাসক্তের ১ শতাংশেরও কম লোককে এই চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২৭টি জেলায় কোনো নিরাময় কেন্দ্র নেই। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাব্যবস্থা বাড়াতে সরকার বেসরকারি মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।


মন্তব্য