kalerkantho


নাখালপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা

নাফিসের বাবাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে, অন্যজন শনাক্ত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম    

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নাফিসের বাবাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে, অন্যজন শনাক্ত হয়নি

রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘রুবি ভিলায়’ জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে চট্টগ্রামের নাফিস উল ইসলাম ওরফে আব্দুল্লাহর (১৬) পরিচয় শনাক্ত করার পর তার বাবাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। তবে নিহত তৃতীয়জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এর আগে শনাক্ত করা হয়েছিল কুমিল্লার মেজবা উদ্দিনকে। ঢাকায় র‌্যাব কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নাফিস চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার মুদি দোকানদার নজরুল ইসলামের ছেলে। সে ছিল চট্টগ্রাম নগরের কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের প্রকাশিত ছবি দেখে নজরুল ইসলাম তাঁর ছেলেকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাফিসকে খুঁজতে গিয়ে গত ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে একটি বাসায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। ১০টি গ্রেনেডসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা সদরঘাট থানা উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার তথ্য জানায়। তাদের কাছ থেকে সদরঘাট থানার মানচিত্রও উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, তদন্তে তথ্য মিলেছে যে কৈশোরেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে স্কুলছাত্র নাফিস। বাড়ি ছাড়ার পর আব্দুল্লাহ ছদ্মনাম নিয়ে জঙ্গি আস্তানায় ছিল সে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে নাফিসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাকে ছাড়া বড় হওয়া নাফিস একপর্যায় জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাফিসের বাবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত। বাবাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। ছেলেটার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয় ১০ বছর আগে। এরপর তাঁরা অন্যত্র বিয়ে করেন। সে পালিত মায়ের কাছে থাকত।’

জানতে চাইলে র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, ‘নিহত অন্যজনের বয়সও একই রকম। সে চট্টগ্রাম নাকি অন্য এলাকার তা খোঁজা হচ্ছে।’ গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ ঠিকানায় ছয়তলা রুবি ভিলার পাঁচতলার মেসে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিন তরুণ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একই ছবি থাকা দুটি পরিচয়পত্র উদ্ধারের পর পরিচয় নিয়ে দ্বিধায় পড়ে র‌্যাব। তবে আঙুলের ছাপ যাচাই করে ১৪ জানুয়ারি র‌্যাব নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার যুবক মেজবা উদ্দিনের পরিচয় শনাক্ত করে। বাড়িটির মালিক ও মেজবার স্বজনসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। মেজবার প্রফাইল ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া দুটি ছবি প্রকাশ করে র‌্যাব পরিচয় জানতে চায়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই ছবির বাঁ পাশে থাকা নীল রঙের প্রিন্টের শার্ট পরা কিশোরই নাফিস। ওই দিন রাতেই নাফিসের বাবা নজরুল ইসলাম নিজেই ছবি দেখে সন্তানকে শনাক্ত করেন।

চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত উপকমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে একটি ছবি পাঠিয়ে তা নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছিল। পরে আমরা নাফিসের বাবা নজরুল ইসলামকে সন্তানের ছবি দেখাই। তিনি ছবি শনাক্ত করেন।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ নাফিসের বাসা থেকে আরো একটি ছবি সংগ্রহ করে। ছবিটি পরে ঢাকায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে দেওয়া হয়। নাফিসদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কানাইমাদারী গ্রামে। তবে তারা সপরিবারে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার নবাব সিরাজদ্দৌলা সড়কের অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরীর বাসার তৃতীয় তলায় থাকত। গত ৬ অক্টোবর বাসা থেকে স্কুলে গিয়ে আর ফেরেনি নাফিস। পরদিন ৭ অক্টোবর তার বাবা নজরুল ইসলাম চকবাজার থানায় একটি জিডি করেন।

চট্টগ্রামের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের একপর্যায়ে উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায় নাফিসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর তার গতিবিধি অনুসরণ করতে করতে পুলিশ গত ১ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকার মাদারবাড়ী বালুর মাঠের পাশে মিনু ভবনের পাঁচতলায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায়। ওই আস্তানা থেকে ১০টি গ্রেনেডসহ আশফাক ও রাকিবুল হাসান ওরফে সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী ওরফে জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন পুলিশ জানতে পারে, পলাতক নাফিসের ছদ্মনাম আব্দুল্লাহ। তাকে ধরতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ।

চট্টগ্রামের চকবাজার থানার প্যারেড মাঠসংলগ্ন নিজের মুদি দোকান চালান নাফিসের বাবা নজরুল ইসলাম। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর নাফিসের দুজনের কাছ থেকেই দূরে থাকত।


মন্তব্য