kalerkantho


বাণিজ্য মেলা

ছুটির দিনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

ফারজানা লাবনী   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাণিজ্য মেলায় কী নেই! সেফটিপিন, মাথার ক্লিপ, প্লাস্টিকের চামচ থেকে শুরু করে খেলনা, জুয়েলারি, প্রসাধনী, জুতা-স্যান্ডেল, ঘড়ি, ঘর-গৃহস্থালি সামগ্রী, পোশাক, হস্ত ও কুঠির শিল্পের পণ্য, মজাদার খাবার, গাড়ি—সবই পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্য সারি সারি সাজানো স্টলে ক্রেতা টানতে আছে অফার আর ছাড়ের ছড়াছড়ি। যানজটের এ শহরে ‘এক ছাদের নিচে’ তুলনামূলক কম দামে রকমারি পণ্য পাওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে কিনছেও।

কখনো কখনো এমন হয় যে মেলায় প্রচুর দর্শক থাকলেও ক্রেতা থাকে কম। কিন্তু গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে আসা দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই ছিল ক্রেতা। অনেকে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের নিয়েও এসেছে। গতকাল সরেজমিন রাজধানীর আগারগাঁও বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।

গতকাল অনেকে পছন্দের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে সকাল সকাল বাণিজ্য মেলায় চলে আসে। যাচাই-বাছাই করে সময় নিয়ে কেনাকাটা করে তারা। অনেকে আবার কী কী কিনবে, তার তালিকা করে নিয়ে আসে।

রহমত ই রাব্বি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কী কী কিনবেন তার লম্বা তালিকা করে দুই বাচ্চাকে বাসায় রেখে সকাল ১১টায় স্ত্রী রূপন্তিকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসেন।

রহমত ই রাব্বি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু কেনাকাটা করেছি। আরো কিছু বাকি আছে। একটি খাবার টেবিল, ছয়টি চেয়ার, একটি বই রাখার আলমিরা কিনব। এখানে একসঙ্গে দেশি-বিদেশি আসবাবের অনেক স্টল আছে। অল্প সময়ে দেখেশুনে পছন্দের পণ্যটি কেনা সহজ। এ ছাড়া মেলা উপলক্ষে প্রতিটি আসবাবের স্টলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় আছে। মেলা থেকে কেনার কারণেই এক লাখ ৮০ হাজার টাকার সোফা সেট এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় কিনতে পেরেছি।’

তাঁর স্ত্রী রূপন্তি বলেন, ‘কিছু থালাবাসন আর প্লাস্টিকের পণ্যও কিনব। ভারত ও থাইল্যান্ডের জুয়েলারি পণ্য অনেক সুন্দর। নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্যদের জন্যও এসব কিনেছি। এখান থেকে বাচ্চাদের মাথার ক্লিপ, হেয়ার ব্যান্ড, স্যান্ডেল কিনেছি। প্রতিবছরই আমরা বাণিজ্য মেলা থেকে কেনাকাটা করি। এত রকমারি জিনিস বাণিজ্য মেলা ছাড়া একসঙ্গে আর কোথায় পাব!’

আবদুস সবুর দুই মেয়েকে নিয়ে মেলায় এসেছেন কেনাকাটা করতে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাতি-নাতনিদের স্কুল বন্ধ। দুই মেয়ে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাণিজ্য মেলা থেকে তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনে দিচ্ছি। এখানে ছাড় আর অফার থাকে। সে কারণে পছন্দের জিনিস অনেক কম দামে কেনা যায়। চারটি কাশ্মীরি শাল কিনেছি। শুধু মেলা উপলক্ষে প্রতিটি শালে তারা ২০০ টাকা ছাড় দিয়েছে।’

অনেক স্টলে রয়েছে রকমারি জুয়েলারির সংগ্রহ। দাম ২০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বেশির ভাগ জুয়েলারি ভারত থেকে আমদানি করা। কানের দুল, গলার মালা, নেকলেস, হাতের চুড়ি, ব্রেসলেট, মাথার ঝাপটা, নাকফুল, বিছা, পায়েলসহ বিভিন্ন ধরনের গয়না আছে এখানে। এসব স্টলে নারী ক্রেতার বেশ ভিড় দেখা যায়।

বিছানার চাদর, মশারি, বালিশ, বালিশের কভার, সোফার কুশন, কুশন কভারসহ ঘর-গৃহস্থালির পণ্য রয়েছে অনেক স্টলে। বিছানার চাদর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। বাচ্চাদের খেলনা কিনছে অনেকে। দেশি-বিদেশি এসব খেলনা ২০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীতের পোশাক কিনছে ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে। শাল, কোট, সোয়েটার, মাফলার ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায়।

ছাড় আর অফার থাকা স্টলে বিক্রির পরিমাণ বেশি। এ ক্ষেত্রে দেশি স্টলের পাশাপাশি ইরান, থাইল্যান্ড, ভারতসহ কিছু বিদেশি প্যাভিলিয়নেও পণ্যের বিক্রি মন্দ নয়।

বিভিন্ন ডিজাইনের ঘড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকায়। আমদানি করা হাল ফ্যাশনের জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদাও বেশ। বয়সে তরুণ-তরুণীরা এসব বেশি কিনছে।

নারী ক্রেতা বেশি প্লাস্টিক আর ঘর গৃহস্থালির দোকানগুলোতে। বিশেষ করে তারা রান্নাঘরের দ্রব্যাদি কিনছে আগ্রহ নিয়ে। ফাইবারের ফলের ঝুড়ি বিক্রি হচ্ছে দেড় শ টাকায়। রয়েছে চামচ, গ্লাস, থালা, বাটি থেকে ওভেন, ইলেকট্রিক চুলার বিক্রিও ভালো। প্যাকেজ হিসেবে একসঙ্গে অনেক পণ্য কিনলে মূল্য ছাড় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাণ আরএফএলের প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্লাস্টিকের সোফা, ডাইনিং টেবিলসহ অনেক পণ্য রয়েছে। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে প্লাস্টিকের ঝুড়ি, বাটি, থালাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য। এসবের দাম ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে মজাদার খাবার খাওয়ার সুযোগ আছে। এক ফাঁকে হোটেল বা ফাস্টফুডের এসব দোকান থেকে বিরিয়ানি, চটপটি, ফুসকা, কাবাব, পিঠা এসব খেয়ে নিতে পারেন।


মন্তব্য