kalerkantho


পাঁচ কিশোরের স্বীকারোক্তি অস্ত্র দেন ছাত্রলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাঁচ কিশোরের স্বীকারোক্তি অস্ত্র দেন ছাত্রলীগ নেতা

চট্টগ্রামে কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদনান ইসফার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, খুনের সঙ্গে জিলহাজ নামে আরো একজন জড়িত থাকার তথ্যও তাদের জবানবন্দিতে এসেছে। খুনের সময় যে পিস্তলটি প্রদর্শিত হয়েছে সেটি মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এনাম হোসেন দিয়েছিল বলে আসামিরা জানিয়েছে।

জবানবন্দিতে পাঁচ কিশোর জানিয়েছে, আদনানের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। দুজন ‘ছোট ভাই’ এসে তাদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করে সাহায্য চাওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা পাঁচজনই হত্যাকাণ্ডের পুরো বর্ণনা দিয়েছে।

পাঁচ কিশোরের একজন সাব্বির খানের হাতে হত্যাকাণ্ডের সময় পিস্তল দেখা গেছে ভিডিও ফুটেজে। সাব্বির জবানবন্দিতে জানিয়েছে, সেই পিস্তল এনাম তাকে দিয়েছেন। এই এনাম হোসেন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান

 বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি রাউজানের পাহাড়তলী গ্রামে। নগরীর চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রউফের অনুসারী। নিজেকে মহসিন কলেজে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন এনাম।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে তাদের জবানবন্দির মিল পাওয়া গেছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর জামাল খান এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয় নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফার। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নগরীর বহদ্দারহাট ও ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতির হাট থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তারা হলো নগরীর হাজেরা তজু কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মঈন খান, সাব্বির খান, মুনতাছির মোস্তফা, ইসলামিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা আব্দুল্লাহ আল সাঈদ ও এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী হলি ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী এখলাস উদ্দিন আরমান।


মন্তব্য