kalerkantho


ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির মালিকানা স্থানীয়দেরই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির মালিকানা স্থানীয়দেরই

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির মালিকানা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেই থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটিতে ৪০০০তম পাড়াকেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে শান্তিচুক্তি আমরা করেছিলাম, তার বেশির ভাগ বাস্তবায়ন করেছি। যেটুকু বাকি আছে সেটা আমরা করব। ভূমি কমিশন আমরা গঠন করে দিয়েছি। ভূমি কমিশন যাতে নিয়মিত বসতে পারে সেই সমস্যাটারও সমাধান হতে পারে।’ জমিজমার মালিকানা নিয়ে ঔপনিবেশিক আইন সংশোধন করে নতুন আইন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব জায়গার মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা পায়; পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন তার ভূমির মালিকানাটা সেইভাবে নিতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থাই করতে চাই। কাজেই ওই মালিকানা তাদের নিজস্ব থাকবে, সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’

 

পার্বত্য অঞ্চলের নারী ও শিশুদের মৃত্যুহার রোধ, ঠিকঠাক পুষ্টি, সুপেয় পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করতেই গড়ে তোলা হয় পাড়াকেন্দ্র। যেটি আসলে এক ছাদের নিচে এসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউনিসেফে’র সহযোগিতায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে পাকা দালান বিশিষ্ট এই ৪০০০তম পাড়াকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।

পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেটা মাথায় রেখেই আমি সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের একটা অঞ্চল অবহেলিত থাকবে—এটা সরকার চায় না। পার্বত্য শান্তিচুক্তি করেছে তাঁর সরকার এবং এ জন্য এটার বাস্তবায়নও সরকার করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আড়াই শর মতো সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছি এবং সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) বিওপি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ সরকারপ্রধান বলেন, যারা অস্ত্র সমর্পণ করেছিল তাদের পুলিশ এবং আনসার-ভিডিপিতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে।

৪০০০তম পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমেই শেষ হতে যাওয়া এ প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন আরেকটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলমান প্রকল্পের জনবলকে নতুন প্রকল্পে নিয়ে যাওয়াসহ আরো কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে তাঁর সরকারের এই উন্নয়নের ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে, সে জন্যই এই নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়িতে স্থানীয় সুবিধাভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উসেসিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আর এ এম ওবায়দুল মুক্তাদীর চৌধুরী এবং ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডুয়ার্ড বেইগবেডার বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাড়াকেন্দ্র নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী পরে ‘চিটাগাং হিলট্রাক্টস জার্নি টুওয়ার্ডস পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। সূত্র : রাঙামাটি প্রতিনিধি ও বাসস।


মন্তব্য