kalerkantho


অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী

বেড়েছে সরকারি খরচে মামলা নিষ্পত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দরিদ্র বিচারপ্রার্থীদের বিনা মূল্যে আইনি সহায়তাদানের সরকারি কার্যক্রম আরো গতিশীল হয়েছে। ফলে বেড়েছে মামলার নিষ্পত্তি। গত বছর ৬৪ জেলায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান (লিগ্যাল এইড) কমিটির মাধ্যমে ১৫ হাজার ৮৯৮ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সরকারি খরচে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ২০১৬ সালে ১৪ হাজার ২২০, ২০১৫ সালে ১২ হাজার ৪১৩, ২০১৪ সালে ৯ হাজার ৭৭৭, ২০১৩ সালে পঁভচ হাজার ৬৩১, ২০১২ সালে চার হাজার ৪৩৩, ২০১১ সালে পঁভচ হাজার ৩৭৬ এবং ২০১০ সালে পঁভচ হাজার ৬২৭ ছিল।

জানা যায়, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ দরিদ্র মানুষকে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তাদানের কার্যক্রমটি পরিচালনা করছে ২০০৯ সাল থেকে। কাজ শুরু করার পর প্রথম বছর তারা তিন হাজার ৫১টি মামলা নিষ্পত্তি করে। প্রতি জেলা আদালতে রয়েছে সংস্থার সহায়তা কার্যালয়। সুপ্রিম কোর্টে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস’। শ্রমিকদের বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দিতে শ্রম আদালতেও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কার্যালয়। হটলাইনের মাধ্যমেও আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মামলা না করে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি (এডিআর) প্রয়োগ করেও সাফল্য পাচ্ছে সংস্থাটি। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় হাজার ৫৭১টি প্রি-কেইস (মামলা হওয়ার আগেই) এবং ৯০৫টি পোস্ট-কেইস (মামলার পরে) মামলা হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৪০টি প্রি-কেইস এবং ৭২৪টি পোস্ট-কেইস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৯ টাকা উপকারভোগীদের আদায় করে দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গরিব মানুষকে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দিতে। অর্থাৎ গরিবের মামলার ভার সরকার নিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এডিআর প্রয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে।’

আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে জানান, ‘ফ্র্রি জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ নম্বর’-এর মাধ্যমেও ২০১৭ সালে ১৫ হাজার ৩২০ জনকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল ২০১৬ সালে এই সেবা চালু করা হয়।

সরকার ২০০০ সালে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হয়।


মন্তব্য