kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী

এবার হজের খরচ বাড়তে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে হজ গমনেচ্ছুদের ব্যয় বাড়তে পারে। কারণ সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ক্রয় ও সেবার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করেছে, যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর প্রভাব আবাসন, খাদ্য ও পরিবহনের ওপরও পড়বে।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সৌদি সরকার আরোপিত ভ্যাটের প্রভাব যাতে হজযাত্রীদের ওপর না পড়ে সে ব্যাপারে তাঁর মন্ত্রণালয় সচেষ্ট থাকবে। সৌদি আরবে বেশ কয়েক দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে গতকাল রবিবার মন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব সফরে বেশ সুন্দরভাবেই দুই দেশের মধ্যে হজ চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি মক্কায় দুই দেশের ধর্মমন্ত্রীর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরকালে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজব্রত পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ১৯৮ জন ও বাকি এক লাখ ২০ হাজার জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে পারবেন। তবে হজযাত্রীর কোটা বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও মোট হজযাত্রী সমান দুই ভাগে বিমান বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করবে। জাহাজযোগে হজযাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলেও সৌদি আরব সে প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। তিনি বলেন, রাজকীয় সৌদি সরকার এবার হজ মৌসুমে নিরাপত্তার প্রশ্নে সব ধরনের শৃঙ্খলার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে হজ এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, গত বছর যেসব হজ এজেন্সি অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মসচিব আনিছুর রহমান বলেন, এবার হজে যেতে প্রাক-নিবন্ধন করেছেন দুই লাখ ২৯ হাজার ৭৬৩ জন। অথচ চুক্তি অনুযায়ী এবার হজে যেতে পারবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। সে হিসাবে প্রাক-নিবন্ধন সত্ত্বেও এক লাখ দুই হাজার ৫৬৫ জন মুসল্লি হজে যেতে পারবেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মসচিব বলেন, হজের প্যাকেজ ঘোষণার পর যাঁরা প্রথম নিবন্ধন করবেন তাঁরাই হজে যাবেন। এখানে আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। বাকিরা অপেক্ষমাণ থাকবেন। হজ এজেন্সিগুলোও এই নিবন্ধন করবে। সেখান থেকে কেউ না গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে যাত্রী পাঠানো হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুর রহমান জানান, কোন খাতে কত খরচ হবে তা এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি সৌদি সরকার। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এই প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে।


মন্তব্য