kalerkantho


লালবাগে হেলে পড়েছে পাঁচতলা ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লালবাগে হেলে পড়েছে পাঁচতলা ভবন

রাজধানীর লালবাগে হেলে পড়া ৫ তলা ভবন (ডানে)। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর লালবাগের জগন্নাথ সাহা সড়কসংলগ্ন পাঁচতলা একটি ভবন পাশের ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার ওই ভবনের বাসিন্দাসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা গিয়ে বাড়িটির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেন। পরে ভবনটিতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথ সাহা রোডের ২/ই নম্বর হোল্ডিংয়ের এই ভবনের মালিক হাজি শওকত আলী (৭০)। তবে শওকত আলী বা তাঁর দুই মেয়ের কেউ সেখানে থাকেন না। ভবনটির ১০টি ইউনিটে ৪৫ জনের মতো ভাড়াটে বাস করছিল।

ভবনটির পাশের একটি লোহার কারখানার হাইড্রলিক মেশিনের কারণে এটি হতে পারে বলে ধারণা করছে মালিকপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে। এর আগে ভবনে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনচার্জ এনায়েত হোসেন বলেন, পাঁচতলা ভবনটি হেলে পড়ার খবরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও রাজউকের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হন। পরে বাড়ির বাসিন্দারের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। লালবাগ থানার ওসি সুভাষ কুমার পাল বলেন, ভবনটির ১০টি ইউনিটে থাকা ৪৫ জনের মতো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার পর রাজউক কর্মকর্তারা পরীক্ষার আগে কাউকে না থাকার সিদ্ধান্ত দেন। রাজউক আবার অনুমতি দিলে পরিস্থিতি বুঝে তখন তারা ভবনে ফিরতে পারবে।

রাজউকের অঞ্চল-৫-এর অথরাইজড অফিসার আশীষ কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুটো বিল্ডিং পাশাপাশি লেগে আছে, এটুকু বোঝা যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে একটু হেলে আছে মনে হচ্ছে। আমরা বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে তালা দিয়েছি। ভবনটি এখন পরীক্ষার জন্য কাগজপত্র তৈরি করা হবে। বুয়েটের প্রকৌশলী দিয়ে পরীক্ষার পর বোঝা যাবে।’

ভবনটি নির্মাণের অনুমোদন ঠিক আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাও যাচাই করে দেখা হবে।’

ভবন মালিক শওকত আলীর নাতি এহসানুল হক বলেন, দুই দিন আগে ভবনটি হেলে পড়লে একজন প্রকৌশলীকে ডেকে আনা হয়। ওই প্রকৌশলী বলেছিলেন, তেমন কোনো সমস্যা নেই। রাজউক থেকে ‘কিছু হয়নি’ বলে অনুমোদন এনে দেবেন বলেছিলেন। এর আগেই পুলিশ আর রাজউক কর্মকর্তারা বাসায় চলে এসেছেন।

বাড়িওয়ালার নাতির দাবি, ১৯৯২ সালে রাজউকের অনুমতি নিয়েই পাঁচতলা ভবনটি করা হয়েছিল। ভবনটির পাশে একটি লোহার কারখানায় হাইড্রলিক মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেখানে সারা দিন মেশিন চলায় ভবনের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


মন্তব্য