kalerkantho


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আগামীকাল উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার দাবিতে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। উত্ত্যক্তকারীদের শাস্তি চেয়ে বেঁধে দেওয়া ৪৮ কর্মঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নতুন এই কর্মসূচি দিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

হামলাকারী ও নিপীড়কদের বিচার, প্রক্টরের পদত্যাগ ও মামলা প্রত্যাহার এবং সাত কলেজের সৃষ্ট সংকটের সুষ্ঠু সমাধান—এই তিন দাবিতে আন্দোলন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, সংহতি সমাবেশসহ ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে তারা।

প্রথমে রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভেতরে পর্যন্ত মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে কলাভবনের ভেতরের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায়ও মিছিল নিয়ে যায়। পরে আবার মিছিল নিয়ে টিএসসি হয়ে আইন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে মোকাররম ভবন এলাকায় আসে শিক্ষার্থীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কার্জন হল এলাকা ঘুরে মিছিলটি শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অজ্ঞাতপরিচয় উল্লেখ করে মামলা করেছেন প্রক্টর। আমরা তো অজ্ঞাতপরিচয় নই। আমাদের ছবি ফেসবুক, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে। আমরা স্বীকার করছি যে আমরাই অজ্ঞাতপরিচয়। ছাত্রলীগের কেউ তো তাদের দোষ স্বীকার করেনি। অজ্ঞাতপরিচয় মামলায় আমাদের গ্রেপ্তার করুন, না হলে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন।’

উম্মে হাবিবা বেনজির আরো বলেন, ‘যৌন নিপীড়নকারী চিহ্নিত ছাত্রলীগ নেতাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করুন। আর যদি না করা হয় তাহলে মঙ্গলবার উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।’

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছে। এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়।

এরপর ১৭ জানুয়ারি নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীর ব্যানারে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীর কাছে তিন দফা দাবি নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে দেখে প্রধান ফটক বন্ধ। তখন তারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রক্টর অফিসের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং প্রক্টরকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে প্রক্টর শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তখন শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ৪৮ কর্মঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ স্থগিত করে।

ভাঙচুরের ঘটনায় গত ১৮ জানুয়ারি রাতে প্রক্টর অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের অজ্ঞাতপরিচয় ও ভাঙচুরকারী পরিচয় দিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং রাত ২টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেয়। গতকাল ৪৮ কর্মঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হয়েছে।


মন্তব্য