kalerkantho


আজ পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবস

এখনো মেলেনি হত্যা মামলার রায়ের কপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এখনো মেলেনি হত্যা মামলার রায়ের কপি

ফাইল ছবি

আজ রবিবার পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবস। ৯ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে  ৫৮ জন সেনা সদস্য (৫৭ জন কর্মকর্তা ও একজন সৈনিক) নিহত হন। আজ ও আগামীকাল তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি। আইএসপিআর ও বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার জানানো হয়, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় শহীদদের স্মরণে আজ সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানরা। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আগামীকাল  সোমবার  বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পিলখানার বীর-উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও বিজিবি মহাপরিচালক, শহীদ ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির  সৈনিক ও বেসামরিক কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ একটি কালো দিন। ৯ বছর আগে ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় ৫৮ জন সেনা সদস্যসহ ৭৪ ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় (পিলখানা হত্যা মামলা) ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে পরিচিত এ মামলায় প্রায় তিন মাস আগে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করলেও এখনো রায় লেখা চলছে বলে জানা গেছে। এই রায়ের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ অপেক্ষায় রয়েছে। রায় কবে প্রকাশিত হবে সে বিষয়েও কারো ধারণা নেই। তবে উভয় পক্ষ দ্রুত রায়ের কপি পাবে বলে প্রত্যাশা করছে। রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিল করার জন্য উভয় পক্ষের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান থাকায় আগেভাগে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবীরা আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ কাজ করা হচ্ছে বলে আসামিপক্ষের আইনজীবী সূত্র জানিয়েছে। আপিল বিভাগ আসামিদের আপিল করার অনুমতি দিলেই তাঁরা আপিল করতে পারবেন। সংবিধানের ১০৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন কারাবন্দি আসামিরা।

আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিম্ন আদালতে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামির সরাসরি ফাঁসি কার্যকরের সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায়ে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। হাইকোর্টের রায় হওয়ার পর আসামিপক্ষ বা রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পায়। আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর এ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য উভয় পক্ষেরই রিভিউ আবেদন করার আইনগত সুযোগ থাকে। এই রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির আসামির ফাঁসি কার্যকর করার সুযোগ নেই।

হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল জানান, কলঙ্কজনক এ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের মধ্যে হাইকোর্ট যাঁদের খালাস দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। রায়ের কপি পাওয়ার পর এ আপিল করা হবে। তিনি বলেন, ‘রায়ের কপি দ্রুত পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেছেন। এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় পাইনি। রায়ের কপি পাওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ কারাবন্দি অন্য আসামিদের পক্ষে লিভ টু আপিল আবেদন করা হবে। মামলায় আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং আপিল করার জন্য মাত্র ৩০ দিন সময় থাকায় আপিলের কাজ এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স, আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় দেন। শেষ দিন অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর সাজা ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। এ বেঞ্চের অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

 


মন্তব্য