kalerkantho


বরিশাল সিটি করপোরেশন

আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের উসকানি দেখছেন মেয়র

বরিশাল অফিস   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে অযৌক্তিক আন্দোলন করছেন। তাঁদের যে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে, তা সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময়কার। আমার সময়ে কোনো বেতন-ভাতা বকেয়া নেই। এর পরও আমি বকেয়া পরিশোধের নিশ্চয়তা দিয়েছি। তাঁদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করেছি। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁরা মানছেন না। তাই এবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

সিটি করপোরেশনের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আহসান হাবীব কামাল এ কথা বলেন। নগর ভবনে ওই সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও কর্মচারীদের বাধার মুখে তিনি সেখানে ঢুকতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা মেয়রকে কটূক্তি করে স্লোগান দিতে থাকেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মেয়র বের হলে তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে কর্মচারীদের হাতাহাতি হয়। এ সময় স্থানীয় এক পত্রিকার ফটোগ্রাফার আহত হন।

তবে মেয়রের কথার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, ‘তিনি সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। হিরনের সময় বেতন বকেয়া থাকলেও তিনি এর চার গুণ অর্থ রেখে গেছেন। সেই অর্থ দিয়ে বর্তমান মেয়র ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করে কমিশন খেয়েছেন।’

দীপক লাল আরো বলেন, ‘মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেউ অফিসে আসেন না। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেননি। তাই আমরা পূর্ব ঘোষণা অনুসারে আগামীকাল (আজ) বুধবার কর্মবিরতি পালন করব।’

করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। কিস্তির মাধ্যমে তাঁদের টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মচারীরা চাচ্ছেন লিখিত দলিল। তা দেওয়ার নিয়ম নেই। তা ছাড়া বকেয়া বেতন দেওয়ার মতো ফান্ডও নেই। তার পরও তাঁদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

 


মন্তব্য