kalerkantho


নাগরিক শোকসভায় বক্তারা

প্রিয়ভাষিণী নির্যাতিত নারীদের আজীবন সাহস জুগিয়েছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী একটি সংগ্রামের নাম। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আজীবন এ দেশের নির্যাতিত নারীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। তাঁর আদর্শকে তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এ শোকসভায় বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ভাষাসংগ্রামী সাংবাদিক কামাল লোহানী, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, শিল্পী হাশেম খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এস এম মাকসুদ কামাল, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

শোকসভার শুরুতেই নেপালে বাংলাদেশের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কবিতা পাঠের মাধ্যমে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে স্মরণ করেন কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। আনিসুজ্জামান বলেন, ‘ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছেন। সবার মধ্যে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাঁর আরেকটি বিশেষ গুণ হলো নন্দনতাত্ত্বিক বোধ। সব কিছুর মধ্যে তিনি সৌন্দর্য খুঁজে বের করতেন। এটিই তাঁকে ভাস্কর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাঁকে আমরা হারিয়েছি বটে; কিন্তু তাঁর চেতনা ও কাজ চিরকাল আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে।’

কামাল লোহানী বলেন, ‘সত্য ও সুন্দরের উপাসনা ছিল ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর আরাধ্য বিষয়। এ কারণেই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সংগ্রামের মানসিকতা দেখাতে পেরেছিলেন। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে তিনি সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস জুগিয়েছেন নারীদের। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের খানিকটা অভিভাবকশূন্য করেছে। তবে সত্য ও সুন্দরের মহীয়সী নারী হিসেবে আজীবন তিনি আমাদের মধ্যে বিরাজ করবেন।’

হাশেম খান বলেন, ‘অনন্য মানুষ ছিলেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তাঁর সঙ্গে কোনো বীর ও সাহসীর তুলনা হয় না। স্বাধীনতার পর বীরাঙ্গনাদের সমাজ কর্তৃক যে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়, তা থেকে মুক্তির জন্য তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক।’


মন্তব্য