kalerkantho


নেপালে যেতে ভয়, চাপা আতঙ্কে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে নেপালের কাঠমাণ্ডু যেতে ঘণ্টাখানেক লাগে। মূল শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক নামেন কাঠমাণ্ডুতে। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও প্রিয় এই গন্তব্য। হিমালয়ের পাহাড় শ্রেণির অপরূপ সৌন্দর্য, মন্দির, অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শন পর্যটকদের হাতছানি দেয়। ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নেমেই কাছে দেখা মেলে হনুমান মুর্তির।

তবে গত সোমবার ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটির ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকে পর্যটকদের মনে ভয় ভর করেছে।  কয়েকজন যাত্রা বাতিল করেছে। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টুরিজম সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ধূসর আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা ঠিক অনেকে যাত্রা বাতিল করছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হানিমুনের জন্য কাঠমাণ্ডু যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন একজন।’ তিনি বলেন, ‘তবে এই ভয় সাময়িকতা দুই-তিন মাসেই কেটে যাবে।’ ত্রিভুবন বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজের চলাচল শুরুর পর সোমবারের আগে দুর্ঘটনার ঘটেছে আরো ৭০টি, প্রাণ গেছে ৬৫০ জনের।

শাহজালালে চাপা আতঙ্কে যাত্রীরা : আব্দুর রাজ্জাক। বাড়ি কুমিল্লা। যাবেন কলকাতায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় আসেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, নেপালে বিমান দুর্ঘটনার পর খুব ভয় হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা যেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আমাকে যেতেই হবে। আল্লাহর নামে যাচ্ছি।’

জামালপুরের বাসিন্দা শারফিন আহম্মেদও কলকাতার যাত্রী। জালেন, ঘটনার পর উড়োজাহাজে উঠতে তাঁরও ভয় লাগছে। ‘তারপর ভয়কে জয় করতেই হবে’ বলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেল যাত্রীদের মধ্যে চাপা আতঙ্কবাজ কাজ করছে। সঙ্গে আসা স্বজনরা দোয়া দরুদ পড়ে তাদের বিদায় দিচ্ছেন। তবে সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাঈম হাসান বলেছেন, ‘নেপালের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেই জন্য আমরা সতর্ক আছি। যাত্রীরা নিশ্চিন্তে বিমান ভ্রমণ করতে পারেন। ভয়ের কিছু নেই।’ 

বিমানবন্দরে কথা হয় অ্যাডভোকেট সাঈদের সঙ্গে। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (ফ্লাইট বিজি-০০৭১) নেপাল যাবেন। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনার খবর শুনে খুবই খারাপ লাগছে। ভয়তো আছে। তার পরও যেতে হবে।

 


মন্তব্য