kalerkantho


বিশ্ব হেমোফিলিয়া দিবস আজ

রক্তক্ষরণজনিত রোগটির প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দেশে বাড়ছে রক্তক্ষরণজনিত রোগ হেমোফিলিয়া। হেমোফিলিয়া আক্রান্ত দম্পতির সন্তান জিনগত কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এই রোগ নিয়ে কোনো গবেষণা ও রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, দেশে এই রোগে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগী রয়েছে। আর সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেমোফিলিয়া দিবস। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিবছরের ১৭ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

চিকিৎসকরা জানান, সাধারণত দুই ধরনের হেমোফিলিয়া রোগী দেখা যায়। রক্তে ফ্যাক্টর-৮ এর ঘাটতির কারণে ‘হেমোফিলিয়া-এ’ এবং ফ্যাক্টর-৯ এর অভাবে ‘হেমোফিলিয়া-বি’তে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে হেমোফিলিয়া-এ রোগের প্রকোপ বেশি, ৮৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১০ হাজার মানুষের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়। পারিবারিক জিনগত কারণে ৮০ শতাংশ রোগীই হেমোফিলিয়া-এ-তে আক্রান্ত হয়। তবে হেমোফিলিয়া-বি’তে আক্রান্তদের যথাযথ পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক এবং আইসিডিডিআর,বির পরামর্শক ড. মাহামুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ফেডারেশন অব হেমোফিলিয়া সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ বলেন, হেমোফিলিয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে রক্তপাত হতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়ার একটি অস্বাভাবিক অবস্থা হলো হেমোফিলিয়া। বড় অস্থিসন্ধি ও হাত-পায়ের পেশি হঠাৎ ফুলে যাওয়া, ব্যথা অনুভূত হওয়া এবং স্থানটি গরম হওয়া এর প্রধান উপসর্গ। রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করলে শরীরের যেকোনো ক্ষত থেকে অবিরাম রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, বারবার বমি হওয়া, তীব্র অবসাদ, ঘাড় ব্যথা, দৃষ্টিভ্রম হয়ে থাকে। এ ছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে পড়ে গিয়ে অল্পতেই ত্বকের উপরিভাগে কালশিটে দাগ পড়ে যায়।

হেমোফিলিয়ার সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট দম্পতির সন্তান নেওয়ার আগে জিনগত পরীক্ষা বা ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা বলেন, হেমোফিলিয়া সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে শরীরে আঘাত লাগার মতো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দাঁতের চিকিৎসা বা যেকোনো ধরনের শল্য চিকিৎসা করানোর আগে রক্ত পরীক্ষা করে হেমোফিলিয়া আছে কি না, তা জেনে নেওয়াটাও জরুরি।

এদিকে বিশ্ব হেমোফিলিয়া দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হেমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও আজ শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার আয়োজন করেছে একাধিক সংগঠন।

 



মন্তব্য