kalerkantho


শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

আবুল কাশেম   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ-ভারত পানিপথেও সহজ যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথ কিংবা সাগর উপকূল দিয়ে বাংলাদেশের আটটি বন্দর ব্যবহার করে ক্রুজ সার্ভিসে ভারতে যাতায়াত করা যাবে। দুই দেশের আটটি করে মোট ১৬টি পোর্ট অব কলের যেকোনোটিতে ওঠানামা করতে পারবে দুই দেশের ভ্রমণকারীরা। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের নাগরিকদেরই প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকতে হবে। মানতে হবে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতাও। চলতি মাসেই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এসওপি সই হতে যাচ্ছে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌপথে যাত্রী পরিবহন সেবা চালু হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ২৩ মে ভারতের মুম্বাইয়ে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর সইয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর থেকেই এটি কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত ‘প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড’ চুক্তির আওতায় নতুন এই চুক্তি স্বাক্ষর করবে দুই দেশ। ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী কার্গো চলাচল করলেও যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ ছিল না।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (টিএ) মনোজ কান্তি জানান, গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে ক্রুজ সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর দুই দেশ মিলে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর চূড়ান্ত করেছে। চলতি মাসেই এ বিষয়ে চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তি হলেই নৌপথে যাত্রী ভ্রমণ শুরু হবে। এর মধ্যদিয়ে যাত্রী পরিবহনে আকাশ, রেল, বাস ও পানিপথ—চার মাধ্যমেই দুদেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে দুই দেশের আটটি করে মোট ১৬টি পোর্ট অব কল ঘোষণা করা হচ্ছে। এসব বন্দরে যাত্রীরা ওঠানামা করতে পারবে। বাংলাদেশের পোর্ট অব কলগুলো হলো চট্টগ্রাম, মোংলা, খুলনা, পায়রা, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও, আশুগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ নদীবন্দর। বাংলাদেশের নাগরিকরা এর যেকোনো একটি থেকেই ভারতে যেতে পারবে। ভারতের নির্ধারিত আটটি নদীবন্দর হলো চেন্নাই, ধুবড়ী, সিলঘাট, পাণ্ডু, প্যারাদ্বীপ, হলদিয়া, কলকাতা ও করিমগঞ্জ। এই ১৬টি পোর্ট অব কলের সবকটিতেই যাত্রী উঠানো ও নামানো যাবে। তবে ভারতের চেন্নাই, বিশাখাপট্টম, হলদিয়া ও পাণ্ডুতে বাংলাদেশ থেকে বেশি যাত্রী যাতায়াত করবে বলে মনে করছে নৌ মন্ত্রণালয়।

চূড়ান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যাত্রীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থা থাকবে নৌযানে। কোনো জাহাজে কেবিন ক্রুসহ এক শর বেশি যাত্রী থাকলে দুই দেশের যৌথ শিপিং কমিটির শর্তানুযায়ী উপযুক্ত একজন মেডিক্যাল অফিসার থাকতে হবে। যাত্রীসংখ্যা এক হাজারের বেশি হলে দুজন মেডিক্যাল অফিসার থাকতে হবে। আর দুই হাজারের বেশি যাত্রীর জন্য তিনজন মেডিক্যাল অফিসার থাকবেন। সে অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক নার্স ও অ্যাটেনডেন্টস থাকতে হবে। তাঁরা বিনা মূল্যে ক্রুসহ সব যাত্রীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবেন। 

এতে বলা হয়েছে, চলতি পথে কারো মৃত্যু হলে জাহাজের মাস্টার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণসহ তার সব রেকর্ড রাখবেন। জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তিনি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে দেবেন। ওই কর্তৃপক্ষ উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।

দুই দেশের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী নৌযানগুলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মোংলা, খুলনা, পায়রা, নারায়ণগঞ্জ, পানগাঁও, আশুগঞ্জ, শেখবাড়িয়া, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী ও চাঁদপুরে জ্বালানি তেল নিতে পারবে। আর ভারতের কলকাতা, বাজ-বাজ, করিমগঞ্জ, নামখানা, পাণ্ডু, ধুবড়ী, চেন্নাই, কৃষ্ণাপাতনাম, বিশাখাপট্টম, কাকিনাদা, প্যারাদ্বীপ ও হলদিয়া থেকে তেল সংগ্রহ করার সুযোগ থাকবে।


মন্তব্য