kalerkantho


সিটি নির্বাচনী প্রচারণায় এমপিরা

সমান সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নস্যাৎ হবে : মাহবুব

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



সমান সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নস্যাৎ হবে : মাহবুব

ফাইল ছবি

সংসদ সদস্যদের প্রচারণার সুযোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিটি নির্বাচনের আচরণবিধি-২০১৬-এর যে সংশোধনী এনেছে, তার বিরুদ্ধে লিখিত মতামত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সভায় দেওয়া এই লিখিত মতামতে তিনি সংসদ সদস্যদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করেন, এতে করে সমান সুযোগ তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশনের যে উদ্যোগ সেটা নস্যাৎ হবে।

কমিশনের ওই সভায় মাহবুব তালুকদার তাঁর লিখিত মতামত পড়ে শোনান। একটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে আইন ও বিধিমালা পরিবর্তন করে যেভাবে সংসদ সদস্যদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটা তিনি অভিনব বলে মনে করেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘বিগত ১২ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারকার্যের বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, সিটি নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ অবারিত করা আবশ্যক। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারের সুযোগ দিতে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালার ২(১৩) সংশোধন করার প্রয়োজন হবে। বিগত ১৩ মে আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির সুপারিশে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকা থেকে সংসদ সদস্যদের বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আমি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে ভিন্নমত পোষণ করি।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘আমি মনে করি, সংসদের সদস্যদের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হবে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির উদ্যোগ নস্যাৎ হবে। বর্তমান সরকারের আমলে ২০১০ সালে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি সংশোধন করেছিল। তার আওতায় সংসদ সদস্যসহ সব সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এই নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ নেই।’

মাহবুব তালুকদার তাঁর নোট অব ডিসেন্টে আরো বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমপিদের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশেষত নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তাঁদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। প্রশাসন ও অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠানই তাঁদের আদেশ-নির্দেশে চলে।’

এই নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, ‘এমপিরা সরকারি সুবিধাভোগী নন বলে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তা নিতান্তই পরিহাসমূলক। তাঁরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না, এ কথা সত্য। কিন্তু তাঁরা এমপি হিসেবে কোটি টাকার গাড়ি ক্রয়ে ট্যাক্স রেয়াত পেয়ে থাকেন। এটা কি সরকারি সুবিধা ভোগ নয়? এ ছাড়া তাঁরা রাজউক, চউক ইত্যাদি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যক্তিগতভাবে যে প্লট বা জমি পেয়ে থাকেন তা কি সরকারি সুবিধা ভোগ নয়?’


মন্তব্য