kalerkantho


রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেপিডোর সঙ্গে এমওইউ

ইউএনএইচসিআর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে জানাল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক জেমস লিঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি জানান। গত সপ্তাহে নেপিডোতে মিয়ানমার সরকার, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এমওইউ সই হয়। এই এমওইউয়ের আওতায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে সই করা চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে সহযোগিতা করবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের আঞ্চলিক পরিচালক জেমস লিঞ্চের সাক্ষাতের কথা জানিয়ে এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, মিয়ানমার সরকার আলোচনার পথে হাঁটবে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আর দেরি করবে না।’ এদিকে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রোনার বার্গেনার গতকাল মঙ্গলবার থেকে মিয়ানমার সফর শুরু করেছেন। এই সফরে তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, নৃগোষ্ঠীভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজ সংগঠন, ধর্মীয় নেতা ও কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাখাইন রাজ্য, শান্তিপ্রক্রিয়া, গণতন্ত্রায়ণ ও মানবাধিকার ইস্যুতে আলোচনা করবেন। মিয়ানমার সফর শেষে তিনি বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো সফরের পরিকল্পনা করছেন।

অন্যদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন গত সোমবার রাতে এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ওপর জাতিসংঘের নজরদারির বিষয়ে সমঝোতা এবং নৃশংসতার তদন্তে কমিশনের ব্যাপারে মিয়ানমারের দ্রুত কাজ করা উচিত। এ ছাড়া কাচিন ও শান রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সংযত হওয়ার এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সুযোগ দিতেও তিনি সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে জেনেভায় গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেসিক বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুরবস্থায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে। তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া উচিত। ওই দুই লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৪১ হাজারেরও বেশি উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে আছে বলে তিনি জানান।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, প্রত্যাশিত ৯৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিলের ইতিমধ্যে মাত্র ২১ শতাংশ অর্থ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিসি) বিচারিক এখতিয়ার আছে কি না সে বিষয়ে আগামী ২০ জুন নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির রুদ্ধদ্বার সেশন হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে আইসিসির অনুরোধ অনুযায়ী এ বিষয়ে অভিমত দিয়েছে। পরে প্রয়োজনে তথ্য-উপাত্ত দিতে পারে বাংলাদেশ।


মন্তব্য