kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

প্রার্থীরা ‘ঈদ উপহার’ দিচ্ছেন শ্রমিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ভোটারদের আকৃষ্ট করতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা নিয়েছেন অভিনব কৌশল।  সেমাই-চিনি, নতুন পোশাক নিয়ে তাঁরা ছুটছেন ভোটারদের পেছনে। এমনি ঈদে শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ি যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন অনেকে। নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫০টি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এ বছর ঈদে শ্রমিকদের কদর বেড়েছে বেশি। আবার ঈদের পরপরই নির্বাচন হওয়ায় তারা যেন দ্রুত গাজীপুর ফিরে আসে সে জন্য করা হচ্ছে অনুরোধ। মূলত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা এখন তৎপর বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গাজীপুর সিটিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক ভোটারের মধ্যে আড়াই লাখ অন্য জেলার বাসিন্দা। ঈদে তাদের বেশির ভাগই গ্রামের বাড়ি যাবে। এ সময়েই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ঘরে ঘরে হাজির হচ্ছেন সেমাই-চিনি, জামাকাপড়সহ নানা উপহার নিয়ে। অনেকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা হিসেবে পুরো পরিবারের বাড়িতে যাওয়া-আসার বাসের টিকিট দিচ্ছেন। টঙ্গী, বোর্ডবাজার, পুবাইল, সালনা, বাংলাবাজার, কাশিমপুর, কোনাবাড়ীসহ নগরীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের চিত্র অভিন্ন।

নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক নারী শ্রমিক জানালেন, দুই ছেলে-মেয়েসহ তাঁদের চার সদস্যের পরিবার। বাড়ি পাবনার শাহজাদপুরে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই এখানে ভোটার। এক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী পুরো পরিবারের ঈদের জামাকাপড়, সেমাই-চিনি, এমনকি বাড়ি যাওয়ার টিকিট ও নগদ টাকাও দিয়ে গেছেন। যাওয়ার আগে নিজের মার্কায় ভোট দেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন ওই প্রার্থী।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের একটি বড় অংশ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর বাসিন্দা। রোকেয়া বেগম নামের এক ভোটার বলেন, ‘এবার আমাদের কদরের শেষ নেই। একজন বের হলে আরেকজন আসছেন। এক প্রার্থী সেমাই-চিনি দিচ্ছেন তো আরেকজন আসছেন নতুন পোশাক নিয়ে। ঠাকুরগাঁও যাতায়াতের বাসের টিকিট দিয়েছেন একজন।’

অনেক শ্রমিক পরিবার দ্বিগুণ তিন গুণ উপহারসামগ্রী পেয়েছে বলেও জানা গেছে। উপহার না নিলে ভোট দেবে না ভেবে নিতে পারেন, এ কারণে ভোটাররা উপহারদাতাদের কাউকে নাকচ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে অনেকে বিব্রত হলেও বেশির ভাগ শ্রমিকই খুশি প্রার্থীদের সহযোগিতা ও উপহারে।

নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিন সড়ক এলাকায় গিয়ে গতকাল দেখা গেছে, স্পেরো গার্মেন্টের সামনে ঢাকা-জয়দেবপুর সড়কে ৩০টির বেশি বাস দাঁড় করানো। এগুলোর বেশির ভাগই শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার জন্য দিয়েছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। এ ওয়ার্ডের ২০-২৫টি কারখানায় ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে। তাদের বেশির ভাগের বাড়ি সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া ও রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায়। প্রতিবছরই বাসের টিকিট না পেয়ে তাদের নানা ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে দিয়ে বাড়ি যেতে হয়। কেউ কেউ টাকা তুলে বাস রিজার্ভ করে যেত। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। তাদের বাড়ি যাওয়া-আসার দায়িত্ব নিয়েছেন বিত্তবান কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। ঈদের ছুটি কাটিয়ে তারা দ্রুত ফিরে আসার শর্তে পাচ্ছে নানা উপহার।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক বলেন, ‘ঈদ উপহারের নামে ভোটারদের আকৃষ্ট করা রীতিমতো অন্যায়। টাকা দিয়ে ভোট কেনা আর উপহার দেওয়ার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার মো. রকিব উদ্দিন মণ্ডল বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে এবং তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 


মন্তব্য