kalerkantho


নৌকা-ধানের শীষের কাঁটা হাতপাখা

রফিকুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, বরিশাল   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



২০০১ সালের ১ অক্টোবর। চলছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ভোটের মাঠেই ‘গুজব’ রটে গেল, চরমোনাই পীরের এলাকায় কারচুপি হচ্ছে। সে সময়ের চারদলীয় জোট প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ছুটে যান চরমোনাই। জড়িয়ে পড়লেন বিতর্কে। একপর্যায়ে পীরের অনুসারীদের হাতে সরোয়ার খেলেন মার। সেই থেকে বিএনপির সঙ্গে চরমোনাইয়ের সম্পর্ক দা-কুমড়া। যদিও চরমোনাইয়ের প্রয়াত পীর এ ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তাতেও বিরোধের বরফ গলেনি। বিএনপি-জামায়াত জোটের কারণে এত দিন যেকোনো ভোটে চরমোনাই পীরের (জামায়াতবিদ্বেষী) সিল পড়ত আওয়ামী লীগের ব্যালটে। এই প্রথম বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। ফলে এবার আওয়ামী লীগ এত দিন পেয়ে আসা চরমোনাই পীরের ‘নগদ ভোট’ হারাচ্ছে এটা নিশ্চিত!

২০১৩ সালের নির্বাচনে জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরণ পরাজিত হয়েছিলেন। হেরেছিলেন আহসান হাবিব কামালের কাছে। যেটা ভোটারদের সমীকরণের বাইরে ছিল। বেশ কয়েকটির মধ্যে হেফাজত ইস্যু তাঁর পরাজয়ের অন্যতম কারণ। এবার হেফাজতে ইসলামের বরিশালের আমির ওবায়দুর রহমান মাহাবুব ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। হেফাজতের কেন্দ্রীয় আমির শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে তিনি দেখাও করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। ফলে হেফাজতের ভোট বিএনপির অনুকূলে যাচ্ছে না, এটা নিশ্চিত! তাই হেফাজত ইস্যুতে বিপদে আছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। হেফাজত অনুসারী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর কারণে কাঁদতে হতে পারে নৌকা-ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থীকেই। এবার ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’র হাওয়া পাল্টে দিতে পারে ভোটের রং।

জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে নিয়ে বেশি শঙ্কায় বিএনপি। কারণ দলটির মেয়র প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহাবুব। তিনি ইসলামী আন্দোলনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও এখনো আছেন হেফাজতে ইসলামের বরিশাল বিভাগীয় আমির পদে। আর হেফাজতে ইসলামীর অধিকাংশ সমর্থক বিএনপির অনুসারী। এ কারণে ওই ভোটগুলো আগামী ৩০ জুলাই কার বাক্সে যাবে তারই সমীকরণ মেলাচ্ছে ভোটাররা।

বড় তিন মাদরাসার সম্পর্ক আওয়ামী লীগের সঙ্গে : চরমোনাই পীর ও তাঁর দল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। তাই নিঃসন্দেহে তারা বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন করে না। আর চরমোনাই পীরের মাদরাসা বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে হওয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলের নেতারাই একসময় ওখানে যেতেন। তবে সরোয়ারের সঙ্গে বিরোধ হওয়ার পর ২০০১ সাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা এ মাদরাসার কাছেও ঘেঁষে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সার্বক্ষণিক এ মাদরাসা ও পীরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। বার্ষিক মাহফিলেও তাঁর বিশেষ অবদান থাকে।

ছারছিনা দরবার শরিফের পীর শাহ মো. মুহিবুল্লাহ। তাঁর বেশ কিছু অনুসারী রয়েছে বরিশাল নগরীতে। পীর যাঁকে বলবেন অনুসারীরা তাঁকেই ভোট দিবেন।

প্রয়াত কায়েদ ছাহেব হুজুরের নেছারাবাদ দরবার শরিফের বর্তমান পীর তাঁর ছেলে খলিলুর রহমান নেছারাবাদী। বরিশাল নগরীতে তাঁর কমপক্ষে ১০টি খানকা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহেই তিনি কোনো না কোনো খানকায় যান। অনুসারীদের নিয়ে জলসা করেন। এই খানকাগুলোতে আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান ও সাইদুর রহমান রিন্টুর বেশ যাতায়াত রয়েছে। পীরও আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর খুব সন্তুষ্ট। তাই আওয়ামী লীগের এই নেতারা ভোটের সমীকরণ পাল্টাতে পীরের সহযোগিতা চাইতেই পারেন।



মন্তব্য