kalerkantho


সালিসের অপবাদ সইতে না পেরে ছাত্রের আত্মহত্যা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নীলফামারীর রামনগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া গ্রামে সালিসে অপবাদ সইতে না পেরে এক কলেজছাত্র আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর নাম সবুজ চন্দ্র রায় (২০)। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার রাতে আটজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিশোরীর শ্লীলতাহানির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে সবুজকে ফাঁসিয়েছেন গ্রাম্য মাতবররা।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেছে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের  সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, ‘মিথ্যা অপবাদে সবুজকে ফাঁসানো হয়েছে। সালিসকারীরা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এক কিশোরীর। গত ৬ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে গ্রামের একটি পাটক্ষেতে  দেখে কিশোরীর দাদু অফিজ উদ্দিনকে (৬০) জানান সবুজ। এ সময় অফিজ উদ্দিনসহ তাঁর পরিবারের লোকজন সবুজকে আটকিয়ে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রচারণা চালায়। পরে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিসে সবুজের পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে মিথ্যা ওই অপবাদের গ্লানি সইতে না পারায় দুপুর দেড়টার দিকে কীটনাশক পান করেন সবুজ। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে  নেওয়া হলে সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মামলার বাদী সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিথ্যা ওই অপবাদের গ্লানি সইতে না পেরে সবুজ আত্মহত্যা করেছে। কীটনাশক পানের আগে সে তার ডায়েরির পাতায় মিথ্যা অপবাদ, গ্লানির কথা লিখে সালিসকারীদের বিচার দাবি করেছে। সবুজকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমি তাদের বিচার দাবি করছি।’

নরেশ চন্দ্র রায় জানান, সবুজ চাঁদের হাট ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর মা-বাবার মৃত্যু হয়। মা-বাবার অবর্তমানে তাঁর অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বলেন, ‘সবুজের সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আটজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায়। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

 

 



মন্তব্য