kalerkantho


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক শনিবার

মাদক নিয়ন্ত্রণে ভারতের জোরালো ভূমিকা চাইবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিবার বাংলাদেশ ভারতের মন্ত্রীপর্যায়ে বৈঠকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সীমান্তে হত্যা বন্ধের আলোচনা। বর্তমানে সীমান্তে হত্যা আগের চেয়ে কমেছে। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ভূমিকার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। আগামী শনিবার দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এবার এই বৈঠকে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনাই বেশি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। মাদকপাচার রোধে ভারত সরকারের আরো জোরালো ভূমিকা চাইবে ঢাকা।

আগামীকাল শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকা আসছে। পরদিন শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দলটির সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অন্যান্য বার যেমন সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ভারতীয় পক্ষকে চাপ দেওয়া হয়ে থাকে, এবারও তা-ই করা হবে। তবে এবার মাদকপাচার শূন্যের কোঠায় কিভাবে আনা যায়, তা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেবেন। এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। ভারতের সহযোগিতার কারণে ফেনসিডিল পাচার অনেক কমেছে। এর পরও ফেনসিডিল পাচার শূন্যের কোঠায় আনা সম্ভব হয়নি। ভারত থেকেও ইয়াবা আসার খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এবারের সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দুই দেশ আরো কার্যকর ভূমিকা কিভাবে রাখতে পারে, সে সবই বেশি আলোচিত হবে।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়েও আলোচনা হবে। ওই কর্মকর্তা জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে। দুই দেশের সম্মতিতেই এই বেড়া দেওয়া হয়। নতুন করে কোনো জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয় থাকলে সেটি আলোচিত হয়। এবারও এমন আলোচনার বিষয় রয়েছে। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের ডিসি ও ভারতের ডিএম পর্যায়ে বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা হবে।    

এ ছাড়া দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা আরো সহজ করা, সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা এবং তরুণদের উগ্রবাদে ঝোঁকা মোকাবেলার পন্থা খুঁজে বের করার বিষয়ে আলোচনা হবে। রাজনাথের সঙ্গে বৈঠকের সময় বিজিবি ও বিএসএসফের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। দুই দেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের চলাচল এবং গবাদি পশু, অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের যেসব অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছে ও কারগারে বন্দি রয়েছে তাদের ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।



মন্তব্য