kalerkantho


শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদমুখর

‘হাতুড়ির স্থান পেরেকের ওপর, ছাত্রের ওপর নয়’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে গতকাল বুধবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবনের সামনে ‘মোকররম ভবন এলাকার শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধনে শিক্ষকরাও অংশ নেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সকালে বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী ব্যানারে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি তোলা হয়, ক্যাম্পাসে আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারায় বাধা দেওয়া যাবে না। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ মধুর ক্যান্টিনে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে বলে, শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না।

এদিকে ছাত্রলীগ সকালে মোকাররম ভবনের সামনে মানববন্ধন করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদ ও নির্বিঘ্নে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে মানববন্ধনে ‘গুজবকে না বলুন’, ‘এসো ভাই, এসো বোন গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘আবেগ সরিয়ে বিবেক আনুন’, ‘গুজবে কান দিবেন না’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখানো হয়।

‘মোকররম ভবন এলাকার শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুত্ফা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদীসহ বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘হাতুড়ির স্থান পেরেকের উপর—ছাত্রের উপর নয়’, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা চাই’,  ‘আমার ক্যাম্পাসে আমি নিরাপদ তো?’, ‘ছাত্র আপনার, দায় নেবেন না কেন?’ লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। এ সময় অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। আমরা সচেতনভাবেই তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। হামলাকারীরা সবাই চিহ্নিত; কিন্তু তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না।’ অধ্যাপক সামিনা লুত্ফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন কোটা থাকবে না, আপনারা আনন্দ মিছিল করলেন। বললেন, আপনারা আগে ছাত্র, পরে লীগ। তাহলে যখন ছাত্ররা প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করতে গেল তখন কেন হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলো?’

এদিকে মশিউরের মুক্তির দাবিতে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা সকালে বিভাগের গেটে তালা ঝোলাতে গেলে হুমকি দেন বিভাগীয় শিক্ষক অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। পরে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে সেখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান নেয়। এ বিষয়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার রয়েছে। আমারও চলাফেরার অধিকার আছে। আমি তাদের বলেছি, যদি তারা আমার চলাফেরায় বাধা দেয়, তবে আমি পুলিশ ডেকে উঠিয়ে দিতে বাধ্য হব।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। শিক্ষার্থী দুজন হলেন ইতিহাস বিভাগের নূরে আলম সিদ্দিকী ও গণিতের মো. হাবুল হোসেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ জুলাই ২০১৮ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িক বহিষ্কার বহাল থাকবে।



মন্তব্য