kalerkantho


বিএনপির গঠনতন্ত্র : ৬ মাসেও খতিয়ে দেখেনি ইসি

৭ নম্বর ধারা বাতিল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ব্যক্তি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য হবেন—গঠনতন্ত্রের এমন ধারা (৭ নম্বর ধারা) বাদ দেওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়তে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসনের একক সিদ্ধান্তে দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২৮ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখেই এটা জমা দেওয়া হয়। এর পর থেকে গঠনতন্ত্র থেকে এ ধারা বাতিল করা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বহাল রাখার জন্য ওই ধারাটি বাতিল করা হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উল্লেখ করা হয়। ওই মামলায় তারেক রহমানেরও ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় তাঁকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা-মামলারও অন্যতম আসামি তারেক রহমান।

এদিকে এমন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে যে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ৭ নম্বর ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব উত্থাপনই করা হয়নি। সার্বিক এই অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে নতুন করে জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে দলের ব্যর্থতার কারণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও মনে করছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একাংশ।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে ভারত তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে আপাতত নিষ্ক্রিয় করার অনুরোধ করে আসছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বর্তমানে দেশে আছেন এমন কাউকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি এবং বিএনপি ‘পরিবারকেন্দ্রিক’ কোনো রাজনৈতিক দল নয় এটি প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। এদিকে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ওই সংশোধনী সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা গত প্রায় ছয় মাসেও খতিয়ে দেখেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু বিএনপি নয়, অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র সংবিধানের এবং অন্যান্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তাও পরীক্ষা করে দেখার ব্যবস্থা হয়নি।

 



মন্তব্য