kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতীয় হাইকমিশনারের

ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে জমি বরাদ্দ হয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে জমি বরাদ্দ হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। বৈঠকে ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রেসসচিব বলেন, ‘গত ৯ বছরে বাংলাদেশ ও ভারত বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত খাতে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্ময়কর অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারতের সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে ভারত তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার এ সময় বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য তাঁর দেশের বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানান, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে এ বিষয়ে নতুন দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে এক হাজার একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁরা সেখানে চাইলে এলএনজি প্রকল্পও স্থাপন করতে পারেন।

এ সময় হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আজ ১৩ জুলাই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের তিন দিনের বাংলাদেশ সফর এবং দুই দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তাঁর সারদা পুলিশ একাডেমি সফর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

শেখ হাসিনা বৈঠকে গত মে মাসে তাঁর ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিষয়টিও স্মরণ করেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিনিকেতন সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ভালো প্রভাব ফেলেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. মজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-কুয়ালালামপুর প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে : বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে সফররত মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সাবুর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানানো হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং সফররত মালয়েশীয় মন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেসসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তাঁর সরকার একটি দ্বীপের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, যেখানে তাদের স্থানান্তর করা হবে।

মালয়েশীয় মন্ত্রী বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বলেন, তাঁর দেশ এসব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মাহাথির মোহাম্মদের প্রতি তাঁর শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. মজিবুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য