kalerkantho


ভুল সবই ভুল

মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেছেন

সবাই সত্যি জানে—এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে সেগুলো মিথ্যা। লিখেছেন আসমা নুসরাত

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেছেন

নিকোলা টেসলা

সমস্যাটি হয়েছিল অনেক পরে। ১৯৪৩ সালে। মার্কনির কম্পানি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি কেস দাখিল করেছিল সে বছর। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র সরকার মার্কনির নামে দেওয়া আগের পেটেন্ট বাতিল করে এবং টেসলাকে রেডিওর আবিষ্কারক ঘোষণা করে। ঘটনাটি ১৮৯০ সালের দিকের। সার্বিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা ইনডাকশন কয়েল (অন্য বিদ্যুতায়িত বস্তুর সংস্পর্শে এলে যেটি বিদ্যুতায়িত হয়) আবিষ্কার করেন। কিন্তু ১৮৯৫ সালে টেসলার গবেষণাগার পুড়ে যায়। তখন তিনি ৫০ মাইল দূরে একটি রেডিও বার্তা পাঠানোর আয়োজন করছিলেন। তবে ১৮৯৭ সালেই টেসলা আমেরিকায় রেডিওর পেটেন্ট নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। আর ১৮৯৮ সালে তিনি ম্যাডিসন স্কয়ারে একটি রেডিওর মাধ্যমে খবর আদান-প্রদানের এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। ১৯০০ সালে টেসলা ইনডাকশন কয়েল তথা টেসলা কয়েলের পেটেন্ট লাভ করেন। ওই বছরই ১০ নভেম্বর মার্কনি টিউনড টেলিগ্রাফের পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন। পেটেন্ট অফিস প্রথমে আবেদন নাকচ করে, যেহেতু এটি টেসলা কয়েলের ওপর ভর করেই কাজ করে। কিন্তু মার্কনির পরিবার ছিল সম্পদশালী। নিজের ব্যবসাও ছিল রমরমা। আরো কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তির তদবিরের ফলে ১৯০৪ সালে মার্কনিকে রেডিও আবিষ্কারের পেটেন্ট দিয়ে দেওয়া হয়। মার্কনি ১৯০৯ সালে নোবেল পুরস্কার জিতে নেন। ১৯১৩ সালের টাইটানিক জাহাজডুবির পর বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের পক্ষ থেকেও সাধুবাদ পান মার্কনি। এটা অবশ্য সত্য, মার্কনি রেডিওর উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাই রেখেছেন। কিন্তু ১৯৪৩ সালটি তাঁর জন্য অশুভ ছিল। রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে তাঁর নাম কাটা যায়, আর টেসলা তাঁর নাম ফিরে পান। উল্লেখ্য, বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুও ১৮৯৫ সালেই অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি এবং কোনো তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তা পাঠাতে সফল হয়েছিলেন।



মন্তব্য